AIIMS Study Warns Harmful Chemicals in Cosmetics During Pregnancy। Ei Samay
গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত কিছু প্রসাধনী, প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS), নয়াদিল্লির নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে এমন কিছু রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ছে, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাসায়নিকগুলির প্রভাব শুধু মায়ের শরীরেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর স্বাস্থ্যের উপরও পড়তে পারে।
গবেষণায় কী জানা গেল?
এই গবেষণায় ৬৪১ জন সুস্থ গর্ভবতী মহিলার স্যাম্পল নেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যাতে শরীরে নির্দিষ্ট রাসায়নিকগুলির উপস্থিতি কতটা রয়েছে, তা বোঝা যায়।
পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ধরা পড়ে মিথাইলপ্যারাবেন (Methylparaben)। এটি এমন একটি সংরক্ষণকারী (Preservative), যা সাধারণত প্রসাধনী, স্কিন কেয়ার পণ্য, লোশন, শ্যাম্পু এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রীতে ব্যবহার করা হয়।
আরও একটি রাসায়নিকের মাত্রা ছিল উদ্বেগজনক
গবেষণায় মোনোইথাইল ফ্যাথালেট (Monoethyl Phthalate)-এর মাত্রাও তুলনামূলক ভাবে বেশি পাওয়া গিয়েছে। এই রাসায়নিকটি মূলত প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
গবেষকদের মতে, এই দুটি রাসায়নিকই এন্ডোক্রাইন-ডিসরাপ্টিং কেমিক্যালস (Endocrine Disrupting Chemicals)-এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলি শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার ফলে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা বাড়ে।
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক সবচেয়ে সংবেদনশীল
সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Second Trimester) এই রাসায়নিকগুলির মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। AIIMS-এর গবেষক তরঙ্গ গুপ্ত জানান, এই সময়ই গর্ভের শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত বিকশিত হয়। তাই এই সংবেদনশীল সময়ে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এমন রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে ভবিষ্যতে শিশুর স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।