আটলান্টার যুদ্ধে লিও এবং এক ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’
পার্থ দত্ত
ইংল্যান্ড ফুটবল মহলে শ্রদ্ধেয় নাম ডেভিড বেকহ্যাম। কিন্তু বুধবার রাত থেকে তিনি কি ইংরেজ ভক্তদের কাছে চিহ্নিত হয়ে যাবেন ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’ হিসেবে? বুধবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্তিনা ও ইংল্যান্ড। এই দুই দেশ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হলেই উত্তেজনা চরমে ওঠে।
ফকল্যান্ডের যুদ্ধ কিংবা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে গোল করার মতো বিতর্কিত ব্যাপারগুলো ঘুরেফিরে আসে। দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় শত্রুতার চরম বাতাবরণ। এ বার এই পরিস্থিতিতেই ইংল্যান্ডের বেশ কিছু মিডিয়া প্রশ্ন তুলেছে, বেকহ্যামের ‘দেশ বিরোধী’ ভূমিকায়। তাঁদের দাবি, বেকহ্যাম তাঁর ক্লাব ইন্তার মায়ামিতে ‘গোকুলে বাড়তে’ সাহায্য করেছেন ‘শত্রু’ দেশ আর্জেন্তিনার সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে। বুধবার যদি মেসির কাছে ইংল্যান্ড হারে, তা হলে সেটার জন্য নাকি দায়ি হবেন বেকহ্যাম!
পিএসজিতে কোণঠাসা হয়ে যখন প্রায় ফুটবল ছাড়ার অবস্থায় পৌঁছেছিলেন মেসি, তখন বেকহ্যামই তাঁকে ইন্তার মায়ামিতে আনেন। আর আমেরিকার ক্লাবে মেসিকে যে সুবিধে দিয়েছেন বেকহ্যাম, তা বিশ্বের অন্য কোনও ক্লাবে কোনও মেগাস্টার পাননি। কী সুযোগ পেয়েছেন মেসি? সামান্য চোটআঘাত বা পুরো ফিটনেসের অভাবে একের পর এক ম্যাচে খেলেননি আর্জেন্তিনীয় মহাতারকা। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই থেকে মেজর সকার লিগের ক্লাবে মেসি এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ৬৭ ম্যাচ। যেখানে পিএসজিতে দু’বছরের কম সময়ে তাঁকে খেলতে হয়েছিল ৫৮ ম্যাচ। অন্য দিকে, সৌদি প্রো লিগে আল নাসেরের হয়ে বিশ্বের অার এক মেগাস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো সাড়ে তিন বছরে খেলেছেন ১০৭ ম্যাচ।
মেসির ফুটবল কেরিয়ার দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ এই পরিসংখ্যানই। চলতি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচের মধ্যে আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে ৮০ মিনিট ও জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩০ মিনিট খেলা ছাড়া লিও বাকি চার ম্যাচই পুরো সময় খেলেছেন। কেপ ভের্দে ও সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২০ মিনিট খেলা সত্ত্বেও মেসিকে ক্লান্ত হতে দেখা যায়নি চরম গরমেও।
অথচ এখানকার গরমে ক্লান্ত বিশ্বের বাকি তারকারা। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে টিমের খেলায় খুশি হননি ইংলান্ড কোচ টমাস তুচেল। ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যাম কোচের প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘এখানকার গরম ও মাঠের অন্য রকম সারফেসের সমস্যা কাটিয়ে খেলাটা যে কতটা কঠিন, তা আমরা বুঝছি। তাই হয়তো সেরাটা দেওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
মেসির পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে। কারণ বেকহ্যামের সৌজন্যে তিন বছর আমেরিকায় থেকে তিনি এখানকার আবহাওয়া ও মাঠের সারফেসের সঙ্গে ভীষণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। তাই তিনি সেরাটা দিচ্ছেন বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপে লিওর লাভে সম্মানহানির মুখে পড়বেন না তো বেকহ্যাম?