বর্ষায় বাড়ছে কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং H1N1, কী বলছেন চিকিৎসকরা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

বর্ষায় বাড়ছে কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং H1N1, কী বলছেন চিকিৎসকরা?

Spread the love

কলকাতা: বর্ষা এলেই সর্দি-কাশি, জ্বরের মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ে। তবে এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। চিকিৎসকদের মতে, একসঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, কোভিড-১৯ এবং H1N1-এর সংক্রমণ বাড়তে…

কলকাতা: বর্ষা এলেই সর্দি-কাশি, জ্বরের মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ে। তবে এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। চিকিৎসকদের মতে, একসঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, কোভিড-১৯ এবং H1N1-এর সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি গায়ক জান কুমার সানু কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই এখন সবচেয়ে জরুরি।

মুম্বইয়ের ফোর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডা. অনিতা ম্যাথিউ জানান, বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়া এবং সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশের কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, কোভিড-১৯ ও H1N1-এর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলি মৃদু প্রকৃতির এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জলপান ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসায় সেরে যায়।

কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না?

চিকিৎসকদের মতে, নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
• জ্বর
• কাশি
• গলা ব্যথা
• শরীরে ব্যথা
• দুর্বলতা
• নাক বন্ধ হওয়া
• শ্বাসকষ্ট
বিশেষ করে উপসর্গ কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Also Read | অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কীভাবে দিন শুরু করতেন সুরভি জ্যোতি? জানুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

একসঙ্গে ছড়াচ্ছে একাধিক ভাইরাস

অমৃতা হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট ডা. প্রদীপ বাজাদ বলেন, এ বছর একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস নয়, বরং বর্ষাকালের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুযায়ী একাধিক ভাইরাস একসঙ্গে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে।
তাঁর কথায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, H1N1 এবং কোভিড-১৯-এর উপসর্গ প্রায় একই রকম হওয়ায় শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই মাঝারি বা গুরুতর উপসর্গ থাকলে, কিংবা উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ জটিল আকার নিতে পারে। বিশেষ করে:
• ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা
• ডায়াবেটিস রোগী
• হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
• দীর্ঘদিনের ফুসফুস, কিডনি বা লিভারের রোগী
• ক্যানসার রোগী
• অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী
• যাঁরা স্টেরয়েড বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন ওষুধ খাচ্ছেন
এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা পূর্ববর্তী অসুস্থতা আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

অ্যান্টিবায়োটিক নিজে থেকে খাবেন না

চিকিৎসকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ শুরু করলে ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

যদি তিন দিনের মধ্যেও জ্বর না কমে, শ্বাসকষ্ট বাড়ে, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় বা উপসর্গ আরও গুরুতর হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

কখন হাসপাতালে যেতে হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।
• শ্বাস নিতে সমস্যা
• বুকে তীব্র ব্যথা
• বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
• ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া
• অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া
বিশেষ করে বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি অবহেলা করা উচিত নয়।

কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।
• ভিড়যুক্ত ঘরের মধ্যে ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করুন।
• নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
• ঘরের পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন।
• অসুস্থ থাকলে বাড়িতেই বিশ্রাম নিন।
• প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো নিন।
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাবেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ সংক্রমণই মৃদু হলেও সতর্ক থাকা জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা, প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা এবং সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আতঙ্ক নয়, দায়িত্বশীল আচরণই বর্ষাকালের এই ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *