Humayun Kabir: রেজিনগর থানায় পৌঁছলেন হুমায়ুন, শক্তিপুর থানার পুলিশ পৌঁছল তাঁর বাড়িতে, ব্যাপারটা কী? | MLA Humayun Kabir appeared at Rejinagar Police Station while Shaktipur Police served a fresh notice at his residence
থানায় হুমায়ুন কবীর (বাঁদিকে), তাঁর বাড়িতে পুলিশ (ডানদিকে)Image Credit: TV9 Bangla
মুর্শিদাবাদ: একটা থানায় হাজিরার সময় আগে থেকেই ঠিক ছিল। সেই মতো সকাল সাড়ে এগারোটায় কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে থানায় পৌঁছে গেলেন তিনি। আর নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যখন রেজিনগর থানায় পৌঁছলেন, তখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন শক্তিপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার শক্তিপুর থানার পুলিশ হুমায়ুনের বাড়িতে গিয়ে হাজিরার নোটিস দিয়ে এল। রেজিনগর থানায় হাজিরার পর আগামী ১৯ জুলাই শক্তিপুর থানায় হুমায়ুনকে হাজিরা দিতে হবে।
হুমায়ুনকে ২ থানায় হাজিরার জন্য কেন ডাকা হল?
হুমায়ুনের দুটি মন্তব্য নিয়ে দুটি থানায় মামলা হয়েছে। গত ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুর হাটতলার এক জনসভায় বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন বলেছিলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাঁটা ভাঙা মার শুরু করব যে আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না।” অন্যদিকে, শক্তিপুর থানায় যে এফআইআর দায়ের হয়, সেখানে অভিযোগ করা হয় যে শক্তিপুর থানার গড়দুয়ার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিজয় সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য কের মানহানিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন হুমায়ুন।
রেজিনগরে হুমায়ুনের এই হুঁশিয়ারি নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় হুমায়ুনের মন্তব্য তুলে ধরে সংযত হওয়ার বার্তা দেন। দুটি থানার পুলিশও কড়া পদক্ষেপ করে হুমায়ুনকে হাজিরা হওয়ার জন্য নোটিস পাঠায়। গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় হাজিরা এড়ান নওদার বিধায়ক। তবে ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় হাজিরা দেন। ওইদিন হুমায়ুনকে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে রেজিনগর থানার পুলিশ। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পরই ১৪ জুলাই ফেরে হাজিরা দেওয়ার জন্য হুমায়ুনকে নোটিস ধরায় রেজিনগর থানা।
সেইমতো এদিন রেজিনগরে দলীয় কার্যালয় থেকে কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে থানায় পৌঁছে যান হুমায়ুন। থানায় হাজিরা দিতে যাওয়ার আগে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। আর তিনি যখন রেজিনগর থানায় পৌঁছে যান, তখন শক্তিপুর থানার পুলিশ তাঁর মানিক্যহারের বাড়িতে পৌঁছে যায়। ৩ জুলাই হাজিরার নির্দেশ থাকলে ওইদিন শক্তিপুর থানায় যাননি হুমায়ুন। সেজন্য দ্বিতীয় ১৯ জুলাই হাজিরা দেওয়ার জন্য এদিন হুমায়ুনের বাড়িতে নোটিস দিতে আসেন শক্তিপুর থানার পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর হুমায়ুনের বাড়ির লোকজন নোটিসটি গ্রহণ করেন।