হরমুজ ঘিরে ফের উত্তেজনা, ইরানের বন্দর অবরোধে আমেরিকার নতুন ঘোষণা
পশ্চিম-এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Strait) কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার থেকে…
পশ্চিম-এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Strait) কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাকে ঘিরে আবারও সামুদ্রিক অবরোধ (Maritime Blockade) কার্যকর করা হবে। এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলির উপর নজরদারি চালানো হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন Joint Maritime Information Center (JMIC) জানিয়েছে, ১৪ জুলাই রাত ৮টা GMT (২০০০ GMT) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। ইরানের বন্দর, তেল টার্মিনাল এবং উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব জাহাজের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে, জাহাজটি কোন দেশের পতাকা বহন করছে তা বিবেচ্য হবে না।
অনুমতি ছাড়া চলাচলে আটকানোর হুঁশিয়ারি
জেএমআইসি-র জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে আটকানো, পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগেরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে অন্য কোনও দেশের গন্তব্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা নিরপেক্ষ জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল এই অবরোধের আওতায় পড়বে না।
Also Read | নাগাল্যান্ডে অসম রাইফেলসের গাড়িতে IED বিস্ফোরণ! গুরুতর জখম ৪ জওয়ান
সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-ও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকর করা হবে।
সেন্টকমের দাবি, আঞ্চলিক জলসীমায় ইরান-সংক্রান্ত অবরোধ কার্যকর হলেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী কাজ চালিয়ে যাবে।
আগের অবরোধে কী হয়েছিল?
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত আগের অবরোধ চলাকালীন:
• ১৪০টিরও বেশি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
• ৯টি নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।
• ৫০টিরও বেশি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর আশপাশে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Also Read | নিষেধাজ্ঞা শিকেয় তুলে পিঠে স্কুল ব্যাগ নিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবার রাস্তায় শিশুরাও
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা
সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র আবার “ইরানি অবরোধ” কার্যকর করবে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই জলপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির পণ্যমূল্যের ২০ শতাংশ নিরাপত্তা বাবদ চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই ঘোষণা দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির থেকে ভিন্ন। কারণ এতদিন হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিনামূল্যে ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
আমেরিকার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লেখেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। তবে তিনি দাবি করেন, ২০ শতাংশ চার্জ অত্যন্ত বেশি এবং হরমুজ প্রণালীর প্রকৃত রক্ষক ইরানই।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের উপর বাধ্যতামূলক টোল আরোপের কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই হতো।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অবরোধ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক করিডরকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।