ডিটারজেন্ট-পাম অয়েলে তৈরি হচ্ছে ‘দুধ’! কোটি টাকার কারবার ফাঁস - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডিটারজেন্ট-পাম অয়েলে তৈরি হচ্ছে ‘দুধ’! কোটি টাকার কারবার ফাঁস

Spread the love

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলায় এক ভয়াবহ দুধ-দুর্নীতির পর্দাফাঁস করল প্রশাসন। ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম অয়েল এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে কোটি কোটি লিটার ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে…

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলায় এক ভয়াবহ দুধ-দুর্নীতির পর্দাফাঁস করল প্রশাসন। ডিটারজেন্ট পাউডার, পাম অয়েল এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে কোটি কোটি লিটার ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভুম এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ এবং খাদ্য ও মাদক সুরক্ষা দফতর যে পরিমাণ ভেজাল দুধের সন্ধান পেয়েছে, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম দুধ তৈরির কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার কেজি নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ ব্যবহার করে ২৩ লক্ষ লিটারেরও বেশি কৃত্রিম তরল দুধ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই বিষাক্ত মিশ্রণকে আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারজাত করা হত। চক্রটির কৌশল ছিল, প্রতি ১০০ লিটার খাঁটি দুধের সঙ্গে ১০ লিটার এই কৃত্রিম মিশ্রণ মিশিয়ে দেওয়া, যাতে সাধারণ ক্রেতারা রং বা ফ্যাটের মাত্রায় কোনো অসংগতি ধরতে না পারেন।

সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার ভেজাল দুধ ইতিমধ্যেই রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। এই কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে বালাসাহেব গোড়গে নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তিনিই বিভিন্ন ডেইরি ইউনিটে এই ভেজাল গুঁড়ো দুধ সরবরাহ করতেন। কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৬১ ব্যাগ ভেজাল গুঁড়ো দুধ উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা।

চিকিৎসকদের মতে, ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক মেশানো এই দুধ পান করা মানেই কার্যত বিষপান। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের দুধ সেবনের ফলে কিডনি এবং যকৃত পুরোপুরি বিকল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং সন্তানসম্ভবা নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। বিপাকতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনায় সাত জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক হলেও তাঁদের সন্ধানে এক পুলিশ ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। দেশের খাদ্যসুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এই ধরনের গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক দুধ সংগ্রহকেন্দ্র এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *