কত অ্যাকাউন্টে কত টাকা, ইডির রিপোর্ট চায় হাইকোর্ট - 24 Ghanta Bangla News
Home

কত অ্যাকাউন্টে কত টাকা, ইডির রিপোর্ট চায় হাইকোর্ট

Spread the love

এই সময়: তৃণমূল কংগ্রেসের কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে, কোন অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে— তা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাছ থেকে তথ্য তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি আলিপুর আদালত কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ তৃণমূলকে ফ্রিজ় করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তারও তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের ৪৪০ কোটি টাকা ইডির ফ্রিজ় করা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সোমবার উঠে আসে আলিপুর আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ। যা শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের মন্তব্য, ‘ওই কাজ করার কথা নির্বাচন কমিশনের। সিভিল কোর্ট কি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিতে পারে? যদি তাই হয়, তা হলে কমিশনের কাজ কী?’

এ দিন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনলেও অনেক অনুনয়–বিনয়ের পরেও বিদ্রোহী তৃণমূলের তরফে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য এ দিন শুনতে রাজি হয়নি আদালত। তাঁকে যথোপযুক্ত বিধি মেনে আবেদন করার নির্দেশ দেন বিচারপতি রাও। এ দিন শুনানি শেষ হলেও, রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। তবে শুনানি শেষে আদালতের ইডিকে নির্দেশ, এদিনই মুখবন্ধ খামে তৃণমূলের কত অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে কত টাকা আছে, তার তথ্য–সহ রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

ইডির এই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে দোলা সেন। এ দিন ইডির তরফে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন এই মামলা দায়েরের এক্তিয়ার নিয়ে। তিনি জানান, গত ৭ জুলাই আলিপুর সিভিল কোর্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, দলীয় অফিস–সহ তৃণমূলের সম্পত্তি ব্যবহারে কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ শিবিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই ওই সব অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য তাঁরা আবেদন করতে পারেন না।

কালীঘাটপন্থীদের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির পাল্টা যুক্তি, ‘আলিপুর আদালত এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই রায় দিয়েছে। অন্য পক্ষকে মামলার কোনও নথিও দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া দলের কোন অংশ ‘প্রকৃত তৃণমূল’, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ তাঁর সংযোজন, ‘এর আগে পুলিশ দু’টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল। সেগুলি সিঙ্গল বেঞ্চ শর্ত সাপেক্ষে খোলার অনুমতি দিয়েছে। সেই নির্দেশ দেওয়া হয় ৯ জুলাই। আর ৭ জুলাই ইডি অন্য আটটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে। সবটাই অঙ্ক কষে করা। যে বিধায়ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় নিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তিনিও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভোটে লড়ার খরচ চালানোর টাকা পেয়েছেন। এই সব অ্যাকাউন্ট থেকে বেসরকারি বিমান নেওয়ার জন্য যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার সবই অনলাইন বা চেকে।’ সিঙ্ঘভির কটাক্ষ, ‘এটা এখন এমন একটা রাজ্য, যেখানে প্রধান বিরোধী দলের একটা অংশ শাসকপক্ষকে সরাসরি সমর্থন করছে। এটা একেবারে নজিরবিহীন। এটাই গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা।’

বিচারপতি রাওয়ের বক্তব্য, ‘তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি মামলাকারীকে এমন মামলা করার অনুমতি দিতে পারে বলে মনে করছে কোর্ট। কিন্তু সিভিল কোর্ট কি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিতে পারে?’ কালঘাটপন্থী তৃণমূলের আর এক আইনজীবী কিশোর দত্তের বক্তব্য, ‘ইডি–র দায়ের করা ইসিআইআর খারিজের আবেদন করা হয়েছে। ফ্রিজ় করা অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দিতেও আবেদন করা হয়েছে।’ আদালতের প্রশ্ন, ‘ইডি কীসের ভিত্তিতে এগোল? পুলিশের থেকে কি কোনও চিঠি বা রিকুইজি়শন পেয়েছিল?’ এর মধ্যে এক আইনজীবী নিজেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌঁসুলি হিসেবে দাবি করে বক্তব্য জানানোর আবেদন করেন। তা খারিজ করেছে হাইকোর্ট।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *