'এখন টাকা দিতে হবে না, প্লিজ় ফিরে আসুন', পলাতক পঞ্চায়েত সদস্যার প্রতি আর্জি গ্রামবাসীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

'এখন টাকা দিতে হবে না, প্লিজ় ফিরে আসুন', পলাতক পঞ্চায়েত সদস্যার প্রতি আর্জি গ্রামবাসীর

Spread the love

এই সময়, কোচবিহার: ‘পঞ্চায়েত তুমি ফিরে এসো। জনপ্রতিনিধির পরিষেবা দাও।’ এই অভিনব স্লোগান তুলে এক পলাতক তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় মানুষজন। রবিবার সকালে কোচবিহারের মাথাভাঙা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গেন্দুগুঁড়ি গ্রামের ৫৩ নম্বর বুথে এই ঘটনাটি ঘটে। পঞ্চায়েত সদস্যা জ্যোৎস্না বর্মনের বাড়ির সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা জমায়েত করেন। সদস্য বেপাত্তা থাকায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের বক্তব্য, কাটমানি ফেরতের ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন জ্যোৎস্না। সেই টাকা ফেরতের বিষয়টি পরে দেখা যাবে। কিন্তু তার আগে তিনি এসে পঞ্চায়েতের পরিষেবা দিতে শুরু করুন। সদস্যর অনুপস্থিতিতে স্থানীয়রা অনেক সমস্যায় পড়েছেন। পরিষেবা থমকে গিয়েছে। রাজ্যে সরকার বদলের পরে প্রায় সব জায়গায় কাটমানি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। বহু জনপ্রতিনিধি থেকে তৃণমূল নেতারা উধাও। এই অবস্থায় মাথাভাঙার এই বুথে কাটমানিকে পিছনের সারিতে ফেলে দিয়ে পরিষেবার দাবিতে বিক্ষোভ ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনের পরেই এলাকা ছেড়েছেন একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য– সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের অনুপস্থিতিতে যেমন সমস্যা হচ্ছে প্রশাসনিক কাজে, তেমনই বাসিন্দারাও তাঁদের না-পেয়ে পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় স্তরে পঞ্চায়েতের শংসাপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি কাজে সদস্যর স্বাক্ষর প্রয়োজন। কিন্তু তিনি এলাকা ছাড়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু বাসিন্দা। কোচবিহারের শুধু মাথাভাঙাই নয় দিনহাটা, তুফানগঞ্জ-সহ সমস্ত এলাকায় একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্যরাও বর্তমানে জেলা পরিষদ অফিসে না–আসায় অনেক ছাত্রছাত্রী তাদের স্কলারশিপ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফর্মে সই করতে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। আবার গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি বা প্রধানের বাড়ি গিয়ে পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। তাই এখন কাটমানি ফেরতের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাঁদের ফিরে এসে পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি।

এ দিন মাথাভাঙার গেন্দুগুঁড়ি গ্রামে বিক্ষোভকারী মাহান্ত বর্মন বলেন, ‘৪ মে–এর পরে পালিয়ে গিয়েছেন আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যা। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এখন ১২৫ দিনের কাজ শুরু হয়েছে গ্রামে। এ ছাড়া, অনেক নতুন সরকারি প্রকল্প শুরু হয়েছে। সেখানে পঞ্চায়েত সদস্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি না থাকায় এ সমস্ত কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা বলছি, কাটমানির হিসেব পরে হবে। আগে আপনি গ্রামে ফিরে পরিষেবা দিন। না–হলে পদত্যাগ করুন।’

গ্রামবাসী অধীর বর্মন, সুভাষ বর্মন বলেন, ‘পঞ্চায়েত সদস্যা জ্যোৎস্না ও তাঁর স্বামী মন্টু বর্মন কাটমানি হিসেবে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বহু মানুষের থেকে নিয়েছেন। এখন তাঁরা সেই টাকা ফেরতের ভয়ে বাড়ি ছাড়া। এখন সদস্যকে আমাদের অনেক কাজেই প্রয়োজন। কিন্তু বাড়িতে এসে তাঁদের না পেয়ে সকলেই ঘুরে যাচ্ছেন। টাকা না–হয় পরে দেবেন, আগে পরিষেবা দিন।’ পলাতক জ্যোৎস্না ও তাঁর স্বামী মন্টুর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *