টোকিও থেকেই পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জোগান? জাপানি প্রযুক্তি পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

টোকিও থেকেই পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জোগান? জাপানি প্রযুক্তি পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ

Spread the love

তদন্তে দাবি, টোকিও থেকেই গোপনে জাপানি উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ রাশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, সেগুলিই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন (Russia Ukraine War) যুদ্ধের মাঝেই সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক দাবি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টোকিওর একটি বহুতল ভবন থেকে পরিচালিত রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (GRU) একটি গোপন ইউনিট জাপান থেকে উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে রাশিয়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। এই যন্ত্রাংশই রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোপন নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যাকসিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ, যিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এরোফ্লট-এর কর্মী পরিচয়ে টোকিওতে অবস্থান করলেও তিনি আসলে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা GRU-র একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

টোকিও থেকেই পরিচালিত হচ্ছে গোপন নেটওয়ার্ক

তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ফিলচেনকভ টোকিওর একটি উচ্চ ভবনের ২২ তলায় অবস্থিত এরোফ্লট অফিস থেকেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন।
বর্তমান ও প্রাক্তন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি জাপানের বিভিন্ন লজিস্টিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন এবং সেখান থেকেই সংবেদনশীল প্রযুক্তিপণ্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

Also Read | ৩ বছরে ১৬০ কোটি দিয়ে বিমান কিনেছেন মমতা? আর্থিক তছরুপের তদন্তে ইডি

কীভাবে রাশিয়ায় পৌঁছায় এই যন্ত্রাংশ?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলচেনকভ Proco Air নামে একটি জাপানি লজিস্টিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। এই সংস্থা জাপান থেকে বিমানযোগে পণ্য প্রথমে শ্রীলঙ্কা বা উজবেকিস্তান-এর মতো দেশে পাঠায়। পরে সেখান থেকে সেই পণ্য রাশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

Proco Air-এর মালিক তাকেহিকো মিকি জানান, ২০১৮ সালের দিকে তাঁর সঙ্গে ফিলচেনকভের পরিচয় হয় এবং ২০২৪ সালে তাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক শুরু হয়। তিনি দাবি করেছেন, ফিলচেনকভের রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তা তিনি জানতেন না। তাঁর সংস্থা শুধুমাত্র বৈধ পণ্যই পরিবহন করে।

তবে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত বছর ফিলচেনকভের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এক চীনা সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মিকি এমন কিছু পণ্য পাঠানোর উপায় খুঁজছিলেন, যেগুলি রাশিয়ায় পাঠানো নিষিদ্ধ বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন।

Also Read | তেলের বাজারে নয়া টুইস্ট! এবার ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করবে রাশিয়া

ইউক্রেনের বড় দাবি

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে রাশিয়ার ব্যবহৃত প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি যন্ত্রাংশ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসেই ইউক্রেন অন্তত আটটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি জাপানের বিদেশ মন্ত্রকে পাঠায়। সেখানে রাশিয়ার অস্ত্রে ব্যবহৃত জাপানি যন্ত্রাংশের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেও জাপানে তৈরি যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।

কোন কোন সংস্থার নাম উঠে এসেছে?

ইউক্রেনের পাঠানো নথিতে Nippon Electric Corporation (NEC), Panasonic এবং Toshiba-র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই সংস্থাগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়াকে সরাসরি যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনটি সংস্থাই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, তারা জাপানের রপ্তানি সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলে। NEC জানিয়েছে, যেসব যন্ত্রাংশের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি বহু পুরনো এবং বহু বছর আগে থেকেই তাদের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের গোয়েন্দা কাঠামো তুলনামূলকভাবে সীমিত। এমনকি দেশটির নিজস্ব কোনও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও নেই।
এই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিশেষজ্ঞ জাপানকে “স্পাই প্যারাডাইস” বলে উল্লেখ করে আসছেন।
ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির একাধিক সতর্কবার্তার পরও জাপানি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ যথেষ্ট দ্রুত ছিল না বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

জাপানের প্রতিক্রিয়া

জাপানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

অন্যদিকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সংস্থা ও শিল্প সংগঠনকে সতর্ক করেছে এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছে বলে সন্দেহভাজন একাধিক বিদেশি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র নেতৃত্বে জাপান গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে, যাতে বেআইনি রপ্তানি ও বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়। তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *