গণপিটুনি নয়, নাম ও পরিচয় দেখে খুন ইন্দ্রজিৎকে, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, নিশানায় বিরোধীরা
নিহত ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, সে কথা স্বীকার করেও তাঁর পরিবারকে সর্বতো ভাবে সুরক্ষা দিতে শনিবার একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতর মা–বাবার হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে পোস্টিং হবে ওই তল্লাটে বারুইপুর থানার নতুন ফাঁড়িতেই। হামলাকারীদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দ্রজিতের বাড়িটি ইতিমধ্যেই সরকারি খরচে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। নিহত যুবকের বৃদ্ধ বাবার জন্য অবিলম্বে বার্ধক্যভাতা ও মায়ের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে সহায়তা চালু হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
বারুইপুরে ক্লাস সিক্সের এক ছাত্রী গত শনিবার, ৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। রবিবার, ৫ জুলাই সকালে তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, একটি পুকুর থেকে ১১ বছরের ওই বালিকার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, বালিকাটিকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও শারীরিক অত্যাচার করার পরে অজ্ঞান অবস্থায় পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। তার পরেই জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্রের খবর, ওই ঘটনায় আটক এক অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইন্দ্রজিতের নাম বলেছে, এমনটা চাউর হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই অভিযুক্তর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ইন্দ্রজিৎকে দেখা যেত। ইন্দ্রজিতের নাম আনন্দর মুখে শোনা গিয়েছে, এমনটা ছড়িয়ে যাওয়ার পরেই একদল ক্ষিপ্ত লোকজন ওই যুবকের বাড়িতে চড়াও হয়। ইন্দ্রজিৎকে তাঁর মা–বাবার হাত থেকে কার্যত ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বার করে এনে প্রকাশ্য রাস্তায় গণপিটুনি নিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে তদন্তে পুলিশ জেনেছে।
ধর্ষিত ও নিহত নাবালিকার বাবা এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, অনেকেই তাঁর কাছে এসে অভিযোগ করছেন যে, গণপিটুনির ঘটনায় যাঁরা জড়িত নন, তাঁদেরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিষয়টি মখ্যমন্ত্রী জানতে পেরে পুলিশকে নির্দেশ দেন, শুধুই পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে যেন নির্বিচারে গ্রেপ্তার না–করা হয়। আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুইকে বিষয়টি দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর নির্দেশ, গণপিটুনির ঘটনায় ভিডিয়ো ফুটেজে যাদের দেখা গিয়েছে, শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করা হবে।