‘মেয়েকে দলে টানছে, গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি করছে ও…’, সুদীপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অনিন্দিতার
শহরজুড়ে এখন ফুটবলের মরশুম। আসলে শহর নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে এখন বিশ্বকাপের উত্তাপ। যে উষ্ণতা খানিক ছোঁয়াচেও বটে। কেউ, ব্রাজিল, কেউ ফ্রান্স, কেউ আবার আর্জেন্তিনা। সোশ্যাল মিডিয়া ঢুঁ মারলেই নজরে আসছে তর্ক-বিতর্কে বিস্তর ঢেউ। সেই তালিকায় টলিপাড়ার দুই জনপ্রিয় মুখও রয়েছে। যাঁদের মধ্যে কয়েকশো কিমি দূরের দুটি দেশকে ঘিরে রীতিমতো ‘গৃহযুদ্ধ’। এ বলে আমায় দ্যাখ, তো ও বলে আমায়। সুদীপ সরকার ও অনিন্দিতা রায়চৌধুরীর এই দুষ্টুমিষ্টি ‘ক্যাট ফাইট’ কী নিয়ে জানেন?
বরাবরই ব্রাজিল ভক্ত অনিন্দিতা। তবে সুদীপ আবার বিপক্ষ টিম। তাই এই লড়াই বিশ্বকাপের আবহে যে জোরদার, তা বলাই যায়। অভিনেত্রীর প্রিয় টিম ইতিমধ্যেই বেরিয়ে গিয়েছে। এখনও কী তবে সমস্যা চলছে? কী বলছেন অনিন্দিতা ও সুদীপ?
অনিন্দিতা রায়চৌধুরী
আমি ব্রাজিল সেটা তো এখন অনেকেই জানে। তবে আমার বাবা আবার বরাবরই আর্জেন্তিনার ফ্যান। সুদীপের কথা আর কী বলি। ও আবার অন্ধভক্ত। কোনও ভুলই দেখতে পায় না। আমার এখানে একটা জিনিস বলার আছে, মেসির সঙ্গে আমি কোনও কিছুকেই গোলাতে চাই না। কারণ, মেসির গড গিফ্টেড প্রতিভা। কিন্তু সুদীপ গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি করছে। কারণ, মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলেও বলে আর্জেন্তিনা তো জিতল রে। কখনও আবার ব্রাজিল তো হেরে গেল রে।
শুধু আমার সঙ্গে নয়, আমার বোন আভেরী, ভাই শুভ্রাংশ ওরাও ব্রাজিল। দিনরাত সবাই মিলে ঝামেলা চলছে। জানি এটা ফাইনাল অবধি চলবে। আগেরবারের ফাইনালের দিনের একটা ঘটনা এখনও মনে পড়ে। আমার ভাই, আমি আর সুদীপ বসে খেলা দেখছি। ফ্রান্সের প্রথম গোলটার পরে আর্জেন্তিনা কোনও গোল করেনি। এ দিকে ম্যাচ শেষ হতেও তখন খুব কম সময় বাকি। আমি শিওর যে ফ্রান্সই জিতবে। আমার একটা ব্যাপার আছে, সেটা ফুটবল হোক বা ক্রিকেট, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খেলাটা দেখি। আমার বিশ্বাস তাতে পছন্দের টিম জেতে। সে দিনও গোটা ম্যাচটা একটা জায়গায় বসে দেখছিলাম। টয়লেট পর্যন্ত যাইনি। ওমা তার পরেও আর্জেন্তিনা জিতে গেল। সেটা নিয়ে এখনও বাড়িতে চলতে থাকে। এ বারেও মেসিকেই মনে হয় ওরা জেতাবে।
সুদীপ সরকার
সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা রটাচ্ছে আমার নামে অনিন্দিতা। ওরা রুল বুকই পড়ছে না। খালি ভুলভাল যুক্তি সাজাচ্ছে। আসলে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই তো ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন, যাঁদের আমার ভালোলাগে। কিন্তু কেন সকলের থেকে শাহরুখ খানকে বেশি ভালোলাগে, এর ব্যাখ্যা যেমন দিতে পারব না। ঠিক তেমনই মেসিকে কেন এত ভালোলাগে, সেই উত্তরও জানান নেই। ওঁর ব্যবহার, কথা বলা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এ গুলো আমায় অনেক বেশি আকৃষ্ট করে। একটা আলাদা শ্রদ্ধার জায়গা মেসি।
আমি যে অন্ধভক্ত নই, তার প্রমাণ হলো আমি স্বীকার করছি আমাদের ডিফেন্স খুব ভালো নয়। ডি মারিয়াকেও খুব মিস করছি। তবে ভক্ত হলেও একটা কথা বলব, যে ভালো খেলবে, দিনের শেষে সে-ই শেষ হাসিটা হাসবে। বাচ্চা যেহেতু খুবই ছোট, তাই মধ্যরাতের সব খেলা তো দেখা হয় না। তবে লাস্ট একটা সপ্তাহ আছে। সব ম্যাচ দেখতেই হবে।
তবে অনেকেই ভাবছে, অনিন্দিতার পছন্দের টিম বেরিয়ে গিয়েছে, আর কি ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচ দেখবেন তিনি? একগাল হেসে সুদীপ বললেন, ‘না না দেখবে। পর্তুগাল আর ব্রাজিল ভক্তদের সমস্যা হলো, এখন আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে যে খেলবে ওরা সেই দলের। আগেরদিন ইজিপ্ট ছিল, এখন সুইৎজারল্যান্ড। ওরা এখন সব মতাদর্শ থেকে সরেও যাবে। আর মজার ব্যাপর হলো ওদের কথা অনুযায়ী ‘ফিফা জিতিয়ে দিল।’ এত বড় একটা সংস্থা শুধু আর্জেন্তিনাকেই জেতায়, আর কাউকে নয়। শুনলেও ভালোলাগে।’
সুদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশ্য এখানেই শেষ নয়। অনিন্দিতার দাবি, মেয়ের কানের কাছে সারাক্ষণ আর্জেন্তিনার কথা বলে তাকেও নাকি মেসি সমর্থক বানিয়ে দিয়েছেন সুদীপ। যদিও মেয়েকে একটু নিজের দলে টানার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় তাঁদের ‘বিশ্বকাপের লড়াই’।