বিমানের বাগানে 'দৈত্য' আম, সেলফি তোলার হিড়িক
এই সময়, মালদা: নাম ‘থাই ফোর’। একটি আমের ওজন তিন থেকে চার কেজি। তুলতুলে নরম। গুড়ের মতো মিষ্টি। মালদার ইংরেজবাজারের বিনোদপুর গ্রামে বিমান মণ্ডলের জমিতে হওয়া ‘দৈত্য’ আম নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। গাছের ডালে ঝুলে থাকা সেই বিশাল ফলের ভার সামলাতে না-পেরে ডাল নুয়ে পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত গাছে বাঁশের ঠেকনা দিয়ে রাখতে হয়েছে। উদ্যানপালন দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘থাই ফোর’ প্রজাতির এই আমের সাইজ় দেখে অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। বিমান এক বিঘা জমিতে তিন বছর আগে চাষ শুরু করেন। এ বছরই প্রথম ফলন ধরেছে গাছে। পেশায় চাষি হলেও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির আম লাগানোর নেশা তাঁর বহু দিনের। মালদার এক পরিচিত রপ্তানিকারকের সাহায্যে বাংলাদেশ থেকে ‘থাই ফোর’ প্রজাতির চারা আনান। তার পরে অপেক্ষা। এক বছর, দুই বছর, তার পরে তিন বছর। অবশেষে এ বছর প্রথম ফল ধরেছে গাছে।
বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার তাঁর। পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে কয়েক বিঘা চাষের জমি ও আম বাগান রয়েছে বিমানের। তার উপরে নির্ভর করে চলে সংসার। স্কুলের গণ্ডি পেরনোর পরে বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন করা এবং বেচাকেনা করা তাঁর মূল জীবিকা। সেই সঙ্গেই মোবাইল ঘেঁটে থাইল্যান্ড প্রজাতির ‘থাই ফোর’ আমের হদিশ পান তিনি।
তাঁর বাগানে বহু জাতের আম গাছ রয়েছে। তিন বছর আগে লাগানো ‘থাই ফোর’ প্রজাতির গাছে এ বারই প্রথম ফলন ধরেছে। বছর তিরিশের ওই যুবকের কথায়, ‘একটি ফজলি আমের ওজন বড়জোর ৩০০ গ্রাম। এই আম সেখানে তিন থেকে চার কেজি। এত বড় সাইজের যে আম হতে পারে এটা আগে কোনওদিন কল্পনাতেই ছিল না। নিজে এই আম খেয়ে দেখেছি, অত্যন্ত সুস্বাদু। বাগানে অনেকে এসে সেলফি তুলছেন।’
মালদা কৃষি বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী দুষ্মন্তকুমার রাঘব বলেন, ‘থাইল্যান্ডের এই প্রজাতির আম মূলত বড় আকৃতির জন্য পরিচিত। সাধারণত এই জাতের আম সাড়ে তিন থেকে চার কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এটি বাণিজ্যিক ভাবে খুব লাভজনক না-হলেও সংগ্রহ এবং প্রদর্শনীর জন্য অনেকেই এই প্রজাতির আম চাষ করেন।’ জেলার পাশাপাশি ভিন রাজ্যের বিভিন্ন আম প্রদর্শনীতেও নিয়মিত অংশ নেন বিমান। চলতি বছর বিহারের একটি আম প্রদর্শনীতেও এই বিশাল আকৃতির আম নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘এই জেলার অনেক কৃষক বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ করে মালদা জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন। চার কেজি ওজনের আম ফলিয়ে বিমান সকলকে অবাক করেছেন।’ মালদা বরাবরই পরিচিত ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগরের জন্য। সেই পরিচিতির ভিড়েই বার নতুন অতিথি ‘থাই ফোর’।