কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প বিনিয়োগেই জোর তাপস রায়ের - 24 Ghanta Bangla News
Home

কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প বিনিয়োগেই জোর তাপস রায়ের

Spread the love

শিল্পায়নকে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন তাপস রায়(Tapas Roy) । তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শিল্পের…

শিল্পায়নকে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন তাপস রায়(Tapas Roy) । তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন।

তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “আমি শুরু করেছিলাম স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে। দায়িত্ব নিয়েছিলাম এমন একটি ক্ষেত্রে, যেখানে কোনও ইন্ডাস্ট্রি পলিসি ছিল না। কিছুই ছিল না। বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনও ইনসেনটিভও ছিল না। আগের সরকার কিছুই দিয়ে যায়নি। সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে শিল্পের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা শুরু হয়।”

তিনি(Tapas Roy) দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদ শিল্প বিকাশের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ শিল্পের আদর্শ জায়গা। গঙ্গা নদী আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এমন প্রাকৃতিক সুবিধা দেশের সব রাজ্যের নেই। ঈশ্বর, ভগবান এবং প্রকৃতি পশ্চিমবঙ্গকে দু’হাত ভরে দিয়েছেন। কিন্তু গত পাঁচ দশকের অবহেলার কারণে আজ রাজ্যে শিল্পের খরা দেখা দিয়েছে।”

শিল্পে নতুন বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তাপস রায় জানান, লাক্স গ্রুপ পশ্চিমবঙ্গে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, “বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বিনিয়োগ এলে শুধু উৎপাদন বাড়বে না, স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে এবং বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাবে।”

একই সঙ্গে অতীতে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, “এক সময় আদিত্য বিড়লা গ্রুপ, টাটা গ্রুপের মতো বড় শিল্প সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গিয়েছিল। এর প্রভাব রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ওপর পড়েছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের লক্ষ্য।”

তাঁর মতে, শুধুমাত্র বড় শিল্পগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ছোট ও মাঝারি শিল্পগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের উৎসাহিত করা গেলে শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বাংলার নবপ্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে তাপস রায় বলেন, “যুব সমাজের স্বার্থে আমি শিল্পপতিদের কাছে যাব। প্রয়োজন হলে তাঁদের হাতে-পায়ে ধরে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য নিয়ে আসার উদ্যোগ নেব। রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।”

তাপস রায়ের (Tapas Roy) বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে তিনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, সরকারি উদ্যোগ, শিল্পবান্ধব নীতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *