পুজোর আগেই হাওড়ায় তৎপর ‘দুর্গা বাহিনী’
এই সময়, হাওড়া: শারদোৎসবের আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা টিম ‘দুর্গা বাহিনী’। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং জনবহুল রাস্তায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের মতামতও নিচ্ছেন এই বাহিনীর সদস্যরা।
হাওড়া সিটি পুলিশের উদ্যোগে গঠিত ‘দুর্গা বাহিনী’ ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ভাবে নজরদারি শুরু করেছে। উৎসবের মরশুমে যাতে মহিলারা নিরাপদে কেনাকাটা, যাতায়াত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি যোগেশচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়, শ্রী জৈন বিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং হাওড়া ময়দান এলাকায় দুর্গা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। শুধু নিরাপত্তারক্ষীর ভূমিকা নয়, পথচলতি মহিলা, ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়েও খোঁজ নেন বাহিনীর সদস্যরা। কোথাও কোনও ধরনের উত্যক্ত করা, অসামাজিক কার্যকলাপ বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে কি না, তাও জানার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের আগে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর নজরদারি এবং মহিলাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা কী ভাবে পাওয়া যাবে, সেই সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন শহরবাসী। বহু মহিলা জানিয়েছেন, পুলিশের মহিলা টিমকে নিয়মিত এলাকায় দেখতে পেলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং একা চলাফেরা করতে অনেক বেশি নিরাপদ মনে হয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এবং কর্মজীবী মহিলাদের কাছে এই উদ্যোগ যথেষ্ট আশ্বাসের। প্রশাসনের মতে, শুধু অপরাধ ঘটার পরে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, অপরাধ প্রতিরোধই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই উৎসবের আগে থেকেই শহরের অলিগলি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং এলাকা ও জনসমাগমস্থলে দুর্গা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এই বিশেষ বাহিনী আগামী দিনগুলিতেও নিয়মিত ভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেবে। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে ‘দুর্গা বাহিনী’। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের ফলে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি শহরের মহিলাদের নিরাপত্তাও আরও সুনিশ্চিত হবে।