পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক খাদ্য অর্থনীতি এখনও অধরা! উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক খাদ্য অর্থনীতি এখনও অনেকটাই অব্যবহৃত। (seafood economy)রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ হেক্টর জমি মাছ ও চিংড়ি চাষের উপযোগী। কিন্তু লবণাক্ত জলের সম্পদের মাত্র…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক খাদ্য অর্থনীতি এখনও অনেকটাই অব্যবহৃত। (seafood economy)রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ হেক্টর জমি মাছ ও চিংড়ি চাষের উপযোগী। কিন্তু লবণাক্ত জলের সম্পদের মাত্র সামান্য অংশই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
ফলে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে, (seafood economy)যেখানে অন্ধ্রপ্রদেশ উৎপাদন করে প্রায় আট লক্ষ টন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্প্রসারণ করলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সামুদ্রিক খাদ্য অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে।
এতে চার থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে, গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং রফতানিও বাড়বে(seafood economy)। সামুদ্রিক পণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজর্ষি ব্যানার্জি সম্প্রতি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে লবণাক্ত জলের বিশাল এলাকা রয়েছে। কিন্তু এর সামান্য অংশই চিংড়ি চাষে ব্যবহার হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ‘ফুটপাথ দখল বাংলায় ফ্যাশন!’ উচ্ছেদ নিয়ে বিরোধীদের তোপ দিলীপের
কেনিয়াতেও এবার সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠছে ভারত
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ, বড় ঝুঁকিতে ভারতের বাসমতি রফতানি
“মেরিন কালচার পশ্চিমবঙ্গের জন্য সোনার খনি। কিন্তু সম্ভাবনা কাজে লাগানো হয়নি,” তিনি মন্তব্য করেন। বৈজ্ঞানিক চিংড়ি চাষ করলে (seafood economy)গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শিল্পের দাবি, ভর্তুকি নয়, স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো দরকার। বৈধ লিজের সময় কৃষি জমি মাছ চাষের জলাশয়ে রূপান্তরের নিয়মিত অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। রফতানির জন্য খামার নিবন্ধন ও ট্রেসেবিলিটি অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যুৎ খরচও বড় বাধা। পশ্চিমবঙ্গে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় ১১ টাকা, যেখানে ওড়িশায় পাঁচ টাকা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ছয় টাকা। এই ব্যবধান কমানো গেলে চাষিরা লাভবান হবেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিল্প প্রতিনিধিরা আশা করছেন, নীতিগত সহায়তা পেলে উৎপাদন দ্রুত বাড়বে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সামুদ্রিক পণ্য রফতানির উল্লেখযোগ্য অংশ জোগান দেয়।
আরও দেখুনঃ
এর মধ্যে চিংড়ির অংশ বেশি। বৈজ্ঞানিক সম্প্রসারণ হলে রফতানি (seafood economy)আরও বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক নীতি ও পরিকাঠামো থাকলে পশ্চিমবঙ্গ অন্ধ্রপ্রদেশের মতো বড় উৎপাদক হয়ে উঠতে পারে। কর্মসংস্থান বাড়বে, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়। যুবকরা নতুন সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ মহিলারাও এই খাতে যুক্ত হতে পারবেন। তবে পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই চাষের দিকে নজর রাখতে হবে।