ঘর থেকে গ্যাজেট,বর্ষায় বিপদ আর্দ্রতা, কী ভাবে সবকিছু সুরক্ষিত রাখবেন? রইল সহজ টিপস - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঘর থেকে গ্যাজেট,বর্ষায় বিপদ আর্দ্রতা, কী ভাবে সবকিছু সুরক্ষিত রাখবেন? রইল সহজ টিপস

Spread the love

বর্ষা মানেই শুধু স্বস্তির বৃষ্টি নয়। এই সময়ে বাতাসে বেড়ে যায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা। চারপাশের পরিবেশ আরও বেশি স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। ছত্রাক জন্মায় বিভিন্ন জায়গায়। মশার উপদ্রব বাড়ে।

বর্ষায় নানা ধরনের সমস্যা হয়। স্বাস্থ্যের সমস্যা থেকে শুরু করে বাড়ির আসবাবপত্র, জামাকাপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ইলেকট্রনিক্স, এমনকী শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এর প্রধান কারণ হলো বাতাসে বেড়ে যাওয়া আর্দ্রতা (Humidity)। তবে কিছু সাধারণ টিপস মেনে চললে এই সমস্যাগুলির অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

বর্ষায় জামাকাপড়, তোয়ালে, কম্বল বা বিছানার চাদর দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে তাতে খুব দ্রুত ছত্রাক, দুর্গন্ধ ও ফাঙ্গাস তৈরি হয়। তাই এগুলি সম্পূর্ণ শুকিয়ে তবেই আলমারি বা স্টোরেজে রাখুন। এ ছাড়া বর্ষায় অতিরিক্ত আদ্রতায় আলমারির ভিতরে জামাকাপড়ে একটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আলমারির দরজা খুলে রাখুন। এতে ভিতরে বাতাস চলাচল করে এবং আর্দ্রতা কমে। চামড়ার ব্যাগ, জুতো বা বেল্ট রাখার সময়ে সময় সিলিকা জেল ব্যবহার করলে সেগুলি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

বর্ষাকালে কাঠের আসবাবপত্র অনেকসময় আর্দ্রতার কারণে ফুলে যেতে পারে। পাশাপাশি, ধাতব জিনিসেও মরচে পড়তে পারে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। আসবাবপত্র দেওয়াল থেকে সামান্য দূরে রাখলে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কম জমে। ধাতব দরজা, জানালা, যন্ত্রপাতি বা টুলস নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে হালকা তেল লাগিয়ে রাখলে মরচে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়।

আর্দ্রতার কারণে মোবাইল, ল্যাপটপ, ক্যামেরা বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স জিনিসও নষ্ট হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক্স ওয়াটারপ্রুফ (Waterproof) ফোল্ডার বা বাক্সে সংরক্ষণ করুন। ইলেকট্রনিক্সের (Electronics and Car Care) সঙ্গে সিলিকা জেল রাখলে আর্দ্রতা শোষণ করে। কোনও ডিভাইসে জলীয় বাষ্প জমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে চালু না করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। এ ছাড়া বর্ষায় জল জমা রাস্তায় গাড়ি চালালে পরে গাড়ির নীচের অংশ ধুয়ে ফেলুন। শুধু তাই নয়, টায়ার, ব্রেক ও ব্যাটারির অবস্থাও পরীক্ষা করুন।

বর্ষায় ঘরের দেয়াল ও কোণে ছত্রাক জন্মানো খুব সাধারণ সমস্যা। তাই ঘর সবসময় শুকনো ও বাতাস চলাচল করতে পারে, এমন অবস্থায় রাখুন। রান্নাঘর ও বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। কোথাও ছত্রাক দেখা দিলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। ঘরের ভিতরে একসঙ্গে অনেক কাপড় শুকোতে দিলেও আর্দ্রতা আরও বেড়ে যায়, তাই তা এড়িয়ে চলাই ভালো।

বর্ষায় জমে থাকা জলেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মশা জন্মায়। তাই কুলার, ফুলের টব, বালতি, ট্যাঙ্ক বা ছাদে জমে থাকা জল নিয়মিত ফেলে দিন। জল সংরক্ষণের পাত্র সবসময় ঢেকে রাখুন এবং বাড়ির ছাদ ও বারান্দার নর্দমা পরিষ্কার রাখুন।

বর্ষায় ভেজা জামাকাপড় দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা উচিত নয়। সঙ্গে সঙ্গে শুকনো পোশাক পরুন এবং শরীরের ভাঁজ ও পায়ের আঙুলের ফাঁকে জল জমলে তা সবসময় শুকিয়ে নিন। এই সময়ে সুতি পোশাক ব্যবহার করলে ঘাম কম হয় এবং ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। শুধু ফোঁটানো, ফিল্টার করা বা বিশুদ্ধ জল পান করুন। সবসময় সদ্য রান্না করা খাবার খান এবং খোলা রাস্তার খাবার বা কাটা ফল এড়িয়ে চলুন।

শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় বর্ষায় তাঁদের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান করা, টিকাকরণ সময়মতো সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তবে তিন-চার দিনের বেশি জ্বর থাকলে বা দীর্ঘদিন কাশি বা হাঁপানি থাকলে, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়ারিয়া, বমি, ত্বকের সমস্যা, র‍্যাশ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

বর্ষার চেকলিস্ট হিসেবে কী কী রাখবেন? বর্ষাকালে বাড়ি সবসময় শুকনো রাখুন। ভেজা কাপড় ও জুতো দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন। বিশুদ্ধ জল পান করুন। নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করুন। আসবাবপত্র ও ধাতব জিনিস নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *