Samik Bhattacharya on TMC Joining BJP: ‘সাধুরও অতীত থাকে’, কেন তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদকে নিল BJP, বোঝালেন শমীক | Monks Also Have Past, BJP State Secretary Samik Bhattacharya Explains Why BJP Accepted 3 Former TMC MPs in Party
কেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদদের বিজেপিতে নেওয়া হল?Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছিলেন এক মাস আগে। আজ, ৯ জুলাই বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন তিন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বলেছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য দরজা বন্ধ। পরে অবশ্য় শমীক ভট্টাচার্যই বলেছিলেন, ভালো তৃণমূলকে নিতে আপত্তি নেই। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন তিন সাংসদকে কেন বিজেপিতে নেওয়া হল, তার ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি।
এ দিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ভারতের রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও পশ্চিমবঙ্গে বিগত ৫০ বছর ধরে, ৩৪ বছর ধরে সিপিআইএম ও গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা হচ্ছিল। যে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলছিল, তাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘর্ষ চলছিল। সব উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপরে আস্থা রেখে রাজ্যসভার তিন তৃণমূল সাংসদ, যারা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলেন, সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন।”
তৃণমূলের দরজা বন্ধ থেকে তৃণমূলেরই তিন প্রাক্তন সাংসদকে দলে নেওয়া- এই অবস্থান বদল নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “চার ঘণ্টার তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ। যারা মানুষের সম্পত্তি লুট করেছেন, তাদের জন্য দরজা বন্ধ। নির্বাচনের আগে আমি বারবার আহ্বান জানিয়েছিলাম কংগ্রেসের ভোটারদের কাছে, বামপন্থী ভোটারদের কাছে এবং স্পষ্ট করে এটা বলেছিলাম যারা চাকরি বিক্রি করেননি, চাকরি কেনেননি, সিন্ডিকেটে অংশগ্রহণ করেননি, যারা নিরাপরাধ মানুষের উপরে নিজের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেননি, মানুষের অধিকারকে পদদলিত করেননি, যারা টেন্টেন্ড নন, যারা অপ্রাসঙ্গিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাসঙ্গিক করার জন্য বিপরীত পরিস্থিতিতে নিজের ঘাম-রক্ত দিয়ে দেওয়ালে ঘাসফুল চিহ্ন এঁকেছিলেন, তাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম যে আপনারা পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে, আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে এই নির্বাচনে তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। এটা নতুন কোনও বিষয় নয়। আশা করব, এরা প্রত্য়েকেই গুণীজন, বিদ্বগ্ধ মানুষ। এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী -এই শব্দগুলি ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”