Dhupguri: ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ তরুণী, কয়েক ঘণ্টা পর ক্লাবঘরে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ | Woman Found Hanging Hours After Going Missing in Dhupguri
ধূপগুড়ি: নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। ধূপগুড়ি থানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার। তাদের দাবি, তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় গিয়ে মিসিং ডায়েরি করতে চাইলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ধূপগুড়ি মাগুরমারি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিতা রায় (২২) মঙ্গলবার ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালানোর পাশাপাশি ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করতে চায়। পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা সেই সময় অভিযোগ গ্রহণ না করে জানান, চব্বিশ ঘণ্টা পূর্ণ না হলে মিসিং ডায়েরি নেওয়া হবে না। অভিযোগ, এরপর নিরুপায় হয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে আসে।
এদিন সকালে ধূপগুড়ির গিলান্ডি সেতু সংলগ্ন এলাকার একটি ক্লাবঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় এক তরুণীর দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দেহটি রঞ্জিতা রায়ের বলে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মহিলা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থানায় এলে তা অবিলম্বে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। কর্তব্যে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়। কিন্তু সেই নির্দেশের চব্বিশ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই ধূপগুড়ি থানার বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তরুণীর সাত মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। তাঁর পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। মৃতার স্বামী তপু রায়ের অভিযোগ, সময়মতো মিসিং ডায়েরি গ্রহণ করে পুলিশ সক্রিয় হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। পরিবারের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ধূপগুড়ি থানার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।