‘কানুন কে তরিকো সে নহি…’, নাম শুনলেই হাড় হিম, দেশের সেরা ৫ এনকাউন্টার স্পেশালিস্টকে চেনেন?
লাল চোখে সহকর্মীর দিকে চেয়ে আছেন সাধু আগাশি। এটা কোনও কথা হলো? আসলে যতীন শুক্ল সবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। এনকাউন্টার নিয়ে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে তাঁর। তরুণ সহকর্মীর দিকে করুণার চোখে তাকালেন সাধু। রিভলভরটা কোমরে গুঁজতে গুঁজতে বলে দিলেন, ‘হাম ক্রিমিনালস কো আপনে তরিকো সে সমঝাতে হ্যায়, কানুন কে তারিকো সে নহি।’
‘আব তক ছাপ্পান’ ছবিতে সাধু আগাশি তথা নানা পাটেকরের এই সংলাপই এনকাউন্টারের দুনিয়ার শেষ কথা। ‘কানুন কে তারিকো সে নহি। বারুইপুরে খুন ও গণধর্ষণ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর থেকে ঘুরে ফিরে আসছে সাধু আগাশির কথা। চর্চা চলছে দেশের সেরা এনকাউন্টার স্পেশালিস্টদের নিয়ে।
গুন্ডা-রাজ, আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংওয়ার, নটোরিয়াস ক্রিমিনালদের খতম করতে কখনও উঠে এসেছেন সাধু আগাশি। কখনও অজয় পাল শর্মা। অনেকে তো এও বলে ফেলছেন, ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানি…।’ না, এনকাউন্টারকে মহিমান্বিত করা নয়, বরং বুঝে নেওয়া— কী ভাবে এক সময়ের নিছক একটি কৌশল ধীরে ধীরে হয়ে উঠল ‘নায়কোচিত’ আখ্যান।
দয়া নায়েক
এনকাউন্টার স্পেশালিস্টদের দুনিয়ায় তিনি ‘ব্র্যান্ড’। তাঁর ভূমিকাতেই নাকি ‘আব তক ছাপ্পান’-এ অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। ছবিতে অবশ্য তাঁর নাম হয়েছিল সাধু আগাশি। ১৯৯৫ সালে মুম্বই পুলিশে যোগ দেন। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে ওঠেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮০ জনকে খতম করেছিলেন দয়া। প্রশংসা যেমন পেয়েছেন, তেমন তাঁকে নিয়ে বিতর্কও হয়েছে বিস্তর।
অজয় পাল শর্মা
চোখে সানগ্লাস, হাতে ইনসাস রাইফেল। মিষ্টি হাসি নিয়ে তাকি আছেন অজয় পাল শর্মা। তাঁর এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডে কান পাতলে শোনা যায়, তাঁর নাম শুনলে অনেকেই ভয়ে কাঁপেন। সাধে কি আর লোকে ‘সিংঘম’ বলে ডাকে। বাংলায় বিধানসভা ভোটের সময়ে তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিশেষ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল নেতা পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গির খানকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিলেন তিনি। ১০০-র বেশি এনকাউন্টার করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর নামের পাশে।
বিজয় সালাস্কর
দেখলে মনে কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মচারী বোধহয়। কিন্তু চোখের দিকে তাকালেই গোটা শরীর ঠান্ডা হয়ে যেতে বাধ্য। মুম্বই পুলিশের অফিসার বিজয় আনুমানিক ৮৩ জন অপরাধীকে নিকেশ করেছিলেন এনকাউন্টারে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অরুণ গাওলি গ্যাংয়ের সদস্য। ২০০৮-এর মুম্বই জঙ্গি হামলায় শহিদ হন বিজয়।
প্রফুল ভোঁসলে
মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে তখন রাজত্ব করছেন দাউদের ডানহাত বলে পরিচিত ছোটা শাকিল। তাঁর ভয়ে গোটা শহর কাঁপুনি ধরে যায়। আর যাঁর আতঙ্কে খোদ ছোটা শাকিলের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল তিনি প্রফুল ভোঁসলে। অপরাধীদের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ৮৪ জন অপরাধীকে খতম করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর।
অনন্ত দেব
গোটা চম্বলে তখন শিবকুমার প্যাটেল ওরফে ‘দদুয়া’-র নামে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খায়। হেন কোনও অপরাধ নেই, যা নাকি তিনি করেননি। খুন, অপহরণ, তোলাবাজি, ডাকাতি-সহ বহু গুরুতর অভিযোগ ছিল তাঁর নামে। উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় একদম উপরের দিকে ছিল তাঁর নাম। চিত্রকূটে সেই দদুয়াকে খতম করেছিলেন অনন্ত দেব। ৬০টিরও বেশি এনকাউন্টার করেছেন তিনি।