স্নাতকে ভর্তি বৃদ্ধি ইতিবাচক: জগন্নাথ
এই সময়: রাজ্যের সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে অভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে গত বছরের তুলনায় এ বার সার্বিক ভাবে ২০ শতাংশ পড়ুয়া বেশি ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে স্নাতকে ছাত্রীদের ভর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭ শতাংশ। এই প্রবণতা যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মনে করছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলেই এই বৃদ্ধি বলে তাঁর দাবি। মঙ্গলবার শিয়ালদহে দি জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ‘প্লেসমেন্ট ফেয়ার ২০২৬’–এর উদ্বোধন করে মন্ত্রী বলেন, ‘সামনের বছরে ভর্তি আরও বাড়বে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলার শিক্ষার গরিমা ফেরানোর প্রত্যাশা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কাজ করবে।’
জগন্নাথ আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে শিক্ষাক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে রাজ্যের মেধা বাইরে চলে গিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সরকারি, বেসরকারি এবং সমাজের অংশগ্রহণে রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার গরিমা পুনরুদ্ধার হবে বলেই আমার প্রত্যাশা।’ এ দিন তিনি ফের ‘পিএম সেতু’র প্রসঙ্গও তোলেন। জগন্নাথ জানান, এটা নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে ৫১টি আইটিআই–এর মানোন্নয়ন করা হবে। সরকারও যুক্ত থাকবে। দেশের এক হাজার আইটিআইকে উন্নত করতেই এই প্রকল্প। শিল্প সংস্থা ও শিক্ষার মধ্যে সেতু তৈরির জন্যেই এই উদ্যোগ।
শিক্ষা শেষেই কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে জর্জ টেলিগ্রাফের মেন ক্যাম্পাসে তিনদিনব্যাপী ‘প্লেসমেন্ট ফেয়ার ২০২৬’-এর আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই মেলায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংস্থা অংশ নিয়েছে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সরাসরি চাকরির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। এখানে বিভিন্ন বিভাগের হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী অংশ নিচ্ছেন। সম্ভাব্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে— রিলায়েন্স জিও, ডাইকিন, আইএফবি, টাটা, টয়োটা, এলজি, হোন্ডা এবং স্যামসুং-সহ বহু প্রতিষ্ঠান। মেলায় অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের সাক্ষাৎকার ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দি জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি ও ডিরেক্টর অনিল দত্ত বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন এক শক্তিশালী প্লেসমেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যা ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্যে বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এই ধরনের উদ্যোগ তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সফল কেরিয়ার গঠনের পথও সুগম করবে।’ অন্য বক্তারাও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংস্থার মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্ব দেন।