Neymar Retirement: শেষ ১৬তেই স্বপ্নভঙ্গ ব্রাজিলের, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার জুনিয়র! | Neymar Jr announces retirement after losing the RO16 martch against Norway in FIFA World Cup 2026
আমেরিকা : রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাতেই সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে বসে পড়লেন তিনি। উল্টোদিকে ততক্ষনে উল্লাস শুরু করে দিয়েছেন হাল্যান্ড (Erling Haaland), ওডেগার্ডরা (Martin Odegaard)। নরওয়ের কাছে ২-১ হেরে এবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান (FIFA World Cup 2026) শেষ ব্রাজিলের (Brazil)। দর্শকাসনে বসে থাকা হলুদ জার্সির সমর্থকরাও হতভম্ব। মনে হয়, এর থেকে যদি আবার জার্মানির কাছে ৭ গোল খেতেন তাঁরা, এতটা অবাক হয়ত হতেন না। কিন্তু, এই দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না। আবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় সেলেকাওদের। ২০০২ সালে শেষবার ট্রফি জেতার পর থেকে মোট ৬টা বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। কিন্তু, স্কোরবোর্ডের থেকেও তখন হাজার হাজার চোখ খুঁজছে একজনকে। ব্রাজিলের সমর্থকদের নয়নের মণি। নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr.)।
ততক্ষনে নেইমার কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়েছেন মাটিতে। চোখ থেকে বেরোনো অজস্র বারিধারা যেন বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছে,“না, এবারেও হল না।” আবার তাঁকে নিয়ে গদ্য নামবে, তাঁর সমর্থনে অশ্রুসিক্ত চোখে হাততালি দেবেন সমর্থকরা, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই তাঁকে নিয়ে নায়কোচিত ধ্বনি উঠবে কিন্তু বিশ্বকাপ? সেটা তো আর আসবে না। ১৬ বছর আগে যে স্টেডিয়ামে নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরু করেছিলেন, আজ সেখানেই সমাপ্তিও ঘটালেন নেইমার। ম্যাচের শেষেই ঘোষণা করলেন অবসরের। যদিও, ব্রাজিলের হারের থেকে বেশি সমর্থকরা এই কারণেই বেশি হতভম্ব, হতচকিত, দুঃখিত।
ম্যাচের শেষে নেইমার বললেন,“আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই সব শুরু হয়েছিল এবং এখানেই সবকিছুর সমাপ্তি ঘটল। এখানেই সব শেষ।” ২০১০-২০২৬, ১৬ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হল হতাশা দিয়ে, হার দিয়ে, লজ্জা দিয়ে। চোখের জলে বিদায় নিলেন ব্রাজিলের প্রিন্স। চোটের মধ্যেও তিনি নেমেছিলেন বিশ্বকাপে। কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি তাঁকে দলেও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষটা যে এরকম হবে, তা হয়ত ভাবেননি কেউই।
তবুও, নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল পেলেন নেইমার। নরওয়ের বিরুদ্ধে ৯০+১০ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন এই তারকা ফুটবলার। ব্রাজিলের জার্সিতে করেছেন ৮০টি গোল, খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচেরও বেশি। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। দেশের জার্সিতে জিতেছেন কনফেডারেশন্স কাপ, ২০১২ অলিম্পিকে রুপো ও ২০১৬ অলিম্পিকে সোনা। তবুও, বিশ্বকাপ আর জেতা হল না তাঁর। তাঁর অবসরের সঙ্গেই শেষ হল এক সোনালী উপাখ্যান। তাঁর কাহিনী দেখে একটা কবিতাই মাথায় আসে। “আমরা কেউ মাস্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল/ অমলকান্তি সেসব কিছু হতে চায়নি। সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।”