ডেডলাইন বিকেল সাড়ে পাঁচটা, সোমে ইসি–তে নথি জমা ২ শিবিরেরই - 24 Ghanta Bangla News
Home

ডেডলাইন বিকেল সাড়ে পাঁচটা, সোমে ইসি–তে নথি জমা ২ শিবিরেরই

Spread the love

এই সময়: জোড়াফুল প্রতীক এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) নামের অধিকার পাবে কারা? এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিডারশিপে বিদ্রোহীদের টানাপড়েন চলছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই ই–মেল পাঠিয়ে কালীঘাট ও বিদ্রোহী শিবিরকে আজ, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সমস্ত জরুরি নথি জমার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সময়সীমা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র একত্র করার কাজে রবিবার দিনভর ব্যস্ত থেকেছে দুই শিবির।

কালীঘাট সূত্রে খবর, মমতা–শিবিরের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দিল্লিতে নির্বাচন সদনে হাজির হয়ে নথি জমা দিতে পারেন। বিদ্রোহীদের তরফে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত রবিবার কাগজপত্র রেডি করার কাজ করেছেন। তবে আজ তাঁদের কোনও প্রতিনিধি নথিপত্র জমা দিতে যেতে পারেন। বিদ্রোহী শিবিরের দশ জনের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেছে। তাই ঋতব্রত, আখরুজ্জামানরা আর সশরীর রাজধানীতে ইসি–তে যাচ্ছেন না।

বাংলার প্রাক্তন শাসকদলের বিবদমান দুই শিবির সূত্রে খবর, ইসির ই–মেল অনুযায়ী শেষ সাংগঠনিক নির্বাচনের তথ্য, নিজেদের সঙ্গে থাকা বিধায়ক–কাউন্সিলার–ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য দিল্লিতে জমা দেবে। বিশেষত, শেষ সাংগঠনিক নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্যের উপরে নজর দিচ্ছে দুই শিবিরই। ঋতব্রতর কথায়, ‘গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে থাকার সময়ে দুটো ই–মেল পাই। সন্ধ্যা ৭.২২ নাগাদ একটি, ৭.২৩ নাগাদ আর একটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেই চিঠির কপি আমাকে পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তার কপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের ই–মেলে যা যা জানতে চাওয়া হয়েছে, সে সব আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই জানিয়ে দেবো।’

আবার, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ — প্রতীক ধরে রাখা নিয়ে তাঁরা যে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে শনিবার মমতার ফেসবুক লাইভে। জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হলে নতুন সিম্বল গলায় ঝুলিয়ে তিনি প্রচার চালাবেন বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। তবে কালীঘাটের ফোল্ডে থাকা বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় রবিবার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করলে প্রতীক আমাদের পাওয়া উচিত। ১৯৯৮–তে যখন তৃণমূল তৈরি হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত পাঁজা (নথিপত্রে) সই করেছিলেন। সেই সময়ে ঋতব্রত সিপিএমের ছাত্র সংগঠন করত, সন্দীপন সাহা তো এই প্রথম বিধায়ক হয়েছে। এরা কী ভাবে তৃণমূলের দাবিদার হতে পারে?’

বিদ্রোহীদের পাল্টা পর্যবেক্ষণ — চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কালীঘাটের পাশ থেকে সরে যাওয়ায় মমতা–শিবির ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, কালীঘাটের তরফে ইসি–তে মমতার সই করা দলের জাতীয় কর্মসমিতির নামের যে তালিকা জমা দেওয়া হয়, সেখানে চন্দ্রিমার নাম ছিল। তাঁকে রাজ্য সভাপতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনও দলের রাজ্য সভাপতি বদলে গেলে পার্টির জাতীয় কর্মসমিতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। একই ভাবে কালীঘাটের ঘোষিত জেলা সভাপতি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্বের নামও গত ক’সপ্তাহে একাধিক বার বদলেছে। বিদ্রোহী শিবিরের মতে, এর ফলে একাধিক পদাধিকারীর নামের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

এই টানাপড়েন মধ্যে একটি বিষয়ে দুই শিবিরই একমত। সেটা হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে কিছুটা সময় লাগবে ইসি–র। দলের বর্ষীয়ান এক নেতার কথায়, ‘ক্লেম, কাউন্টার ক্লেম — এ ভাবে শুনানি পর্ব চলে, একাধিক শুনানি হয়। তারপরে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কমিশন। সিদ্ধান্ত যাদের বিপক্ষে যাবে, তারা আদালতে আইনি লড়াইয়ে যেতে পারে।’ এর মধ্যে আবার লোকসভার টিম ভেঙে কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বেরিয়ে গিয়ে এনসিপিআই–তে মিশেছেন। স্পিকার ওম বিড়লা এ মাসেই তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।

এই টানাপড়েন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, ‘কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূলের যে লড়াই–ই চলুক না কেন, ওদের সব পদ হলো আপদ। ডুবন্ত নৌকোর মাঝি–মাল্লা কে হলো, খোঁজ নিয়ে কী লাভ? এই নৌকো ডুববেই।’

তৃণমূল ছাড়াও গত দেড় মাসে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাতেও ভাঙন ধরেছে৷ উদ্ধবের সঙ্গ ছেড়ে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীতে গিয়েছেন লোকসভার ছ’জন সাংসদ৷ এঁদের দলত্যাগ ‘অবৈধ’ বলে দাবি তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছে ভাঙন ধরা দু’দলই৷ স্পিকার তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন৷ এই আবহে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সে দিনই তৃণমূল ও শিবসেনার দলছুট ২৬ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পিকার নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন৷ তা নিয়ে কোনও পক্ষ সহমত না হলে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও থাকছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *