রাজ্যে নয়া সরকারি কর্মচারী সংগঠন? জোর চর্চা
সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
পালাবদলের পরে এ বঙ্গে তৈরি হলো আরও একটি নতুন সরকারি কর্মচারী সংগঠন। যার পোশাকি নাম ‘রাষ্ট্রীয় কর্মচারী সেবা ভারতী’।
ওই সংগঠনের দাবি, সরকারি কর্মীদের রাষ্ট্রবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করে শক্তিশালী দেশ গঠন করতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রতি কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তৈরি হয়েছে ওয়েবসাইটও। বিজেপি বা আরএসএস এই ধরনের সংগঠনকে সরাসরি অনুমোদন না দিলেও ওই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতা ও আরএসএস–এর স্বয়ংসেবকদের। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র রায় বলেন, ‘আমরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য সোসাইটি অ্যাক্টে আবেদন জানিয়েছি। ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইট দেখে প্রায় দেড় লক্ষ সরকারি ও আধা সরকারি কর্মচারী আমাদের সংগঠনে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি জেলায় এক জন করে জেলা প্রমুখ রয়েছেন। সব জেলায় এ বার কমিটি গঠন করা হবে।’
বাম আমলে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ছিল ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি’। ডানপন্থীদের ‘পশ্চিমবঙ্গ কর্মচারী ফেডারেশন’। রাজ্যে পালাবদলের পরে কোন সংগঠনে যাবেন রাজ্যের কর্মচারীরা তা নিয়ে গত ক’দিন থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সঙ্ঘ’ নামেও একটি সংগঠনের কথাও শোনা যাচ্ছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে নতুন করে শোনা যাচ্ছে ‘সরকারি কর্মচারী পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ’–র নামও। তার সভাপতি দেবাশিস শীল রবিবার জানান, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ২০১৫–য় বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংগঠন তৈরি হয়। ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বকেয়া ডিএ নিয়ে বৈঠকে অন্য সংগঠনের সঙ্গে তাঁদেরও ডেকেছিলেন। দেবাশিসের কথায়, ‘সে অর্থে বিজেপি কোনও কর্মচারী সংগঠনকে মান্যতা দেয় না। আমাদেরও বিজেপির সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’
এই আবহে ২৮ জুন কলকাতার মহামায়াতলার জয়হিন্দ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ‘রাষ্ট্রীয় কর্মচারী সেবা ভারতী’–র। অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, সঙ্ঘের বরিষ্ঠ প্রচারক প্রলয় তলাপাত্র–সহ অন্যরা। সৌমিত্র জানান, শৃঙ্খলা, কর্তব্যপরায়ণতা, সেবা ও জাতি গঠন — এই চারটি স্তম্ভকে ধরে তাঁরা এগোতে চান। রাজ্যের কর্মচারীরা যদি দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন তৈরি করেন, চাকরিকে সেবার চোখে দেখেন, তা হলেই মানবকল্যাণে প্রকৃত কাজ সম্ভব। আবার কর্মচারীদের কোনও সমস্যা হলেও সেই বিষয়টিও প্রশাসনের কর্তাদের সামনে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তা হলে আন্দোলনেরও প্রয়োজন হবে না।
সৌমিত্র জানাচ্ছেন, এই সংগঠনে যাঁরা যোগ দেবেন তাঁদের সঙ্ঘ পরিচিতি বর্গ ও প্রশিক্ষণবর্গের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ মানুষের সঙ্গে প্রথমে পরিচিত হবেন সকলে। প্রশিক্ষণে সংগঠনের কাজের ধারা বুঝে নেওয়ার পরে নথিভুক্ত হবে নাম, মিলবে সদস্যপদ। সংগঠনের রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘ফাঁকির কোনও জায়গা নেই। প্রয়োজনে ধ্যান ও যোগের মাধ্যমে চাপমুক্ত হওয়ার পদ্ধতিও আমরা শিখিয়ে দেবো।’
মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সৌমিত্র নিজেও গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব। তিনি বিজেপির তফসিলি মোর্চার রাজ্য সম্পাদকও। কো-অর্ডিনেশন কমিটির প্রবীণ নেতা গঙ্গাধর বর্মণ বলেন, ‘আমরাও কয়েকদিন ধরে শুনছি, সরাসরি না–হলেও বিজেপির ছাতার তলায় কর্মচারী সংগঠন হতে চলেছে। কিন্তু এখনও তেমন কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে কাজ শুরু করেছেবলে জানা নেই।’