বাগদানের আংটি কিনে ফেরার পরেই প্রেমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ মিলল বাথরুমে, পাশে বসে প্রেমিকা... - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাগদানের আংটি কিনে ফেরার পরেই প্রেমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ মিলল বাথরুমে, পাশে বসে প্রেমিকা…

Spread the love

থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র পাটায়ায় এক ব্রিটিশ যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে নিহত যুবকের প্রেমিকা, ২১ বছর বয়সি এক ব্রিটিশ তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দু’জনে একসঙ্গে গাঁজা সেবনের পরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম থমাস ডেভিড পাওয়েল (৩৪)। তিনি থাইল্যান্ডের পাটায়ায় একটি বিলাসবহুল ভাড়া বাড়িতে ক্যানাবিস (গাঁজা) চাষ ও তার ব্যবসা করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর এক বন্ধু বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ দেখতে পান। বাথরুমে পড়ে ছিল দেহটি। এর পরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, পাওয়েলের শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃতের বুকে তিনটি, পিঠে দু’টি এবং বাঁ হাতে একটি গভীর ক্ষত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তাঁদের পৌঁছনোর অন্তত ছয় ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছিল ওই যুবকের। মৃতদেহের পাশেই বসে ছিলেন তাঁর প্রেমিকা ইসাবেল ভায়োলেট কারেরাস। পুলিশ জানায়, তখন তিনি গাঁজার নেশায় আচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, রান্নাঘরের সিঙ্কে একটি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা ধারালো দাঁ ধোয়া অবস্থায় রাখা ছিল। পুলিশের সন্দেহ, সেটিই খুনের অস্ত্র। অভিযুক্ত তরুণীর আঙুলেও কাটা দাগ পাওয়া যায়। যদিও তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রেমিক নিজেই নিজেকে আঘাত করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলের বিভিন্ন প্রমাণ এবং তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় সেই দাবি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেনি পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়াও মৃতদেহটি পরে সরানো হয়েছিল বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। কারণ, দেহের মাথার নিচে একটি বালিশ রাখা ছিল, যা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছিল না।

জেরায় ইসাবেল জানান, ঘটনার আগে দু’জনে বাগদানের আংটি কিনতে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে একসঙ্গে গাঁজা সেবন করেন। এর পরে কী ঘটেছিল, তা তাঁর মনে নেই বলেই দাবি করেন অভিযুক্ত তরুণী।

মৃত যুবকের এক বন্ধু জানান, পাওয়েলের ব্যবসার এক পার্টনার আমেরিকা থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে খোঁজ নিতে বলেন। এর পরে তিনি বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, থাইল্যান্ডে গত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা করেছিলেন এই ব্রিটিশ যুগল। পাওয়েল ক্যানাবিস চাষের ব্যবসা করতেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু বাগদানের আংটি কিনে ফেরার পরে কী এমন ঘটল, যে প্রাণ গেল পাওয়েলের তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। খুনের কারণ এখনও অজানা।

এ দিকে, ব্রিটেনের ফরেন কমওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসার (FCDO) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দুই ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং থাই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে। অন্যদিকে, থাই পুলিশ ঘটনাটিকে খুনের মামলা হিসেবেই তদন্ত করছে। ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *