ত্রিফলা ওয়েদার সিস্টেম, রবি–সোমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ত্রিফলা ওয়েদার সিস্টেম, রবি–সোমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

Spread the love

এই সময়: শেষ পর্যন্ত মরশুমের প্রথম নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাস–জ্ঞাপক কৃত্রিম উপগ্রহ ইনস্যাট–থ্রিডি–এস–এর ইনফ্রা–রেড ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে গোটা বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘন মেঘের আস্তরণে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আপাতত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর ওডিশা–পশ্চিমবঙ্গ উপকূল বরাবর অঞ্চলের উপরে অবস্থান করছে। শুধু নিম্নচাপ নয়, একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্তও। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

আবহবিদদের পূর্বাভাস, আজ, শনিবার রাতের মধ্যে নিম্নচাপটি আরও সুস্পষ্ট বা শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম রাজস্থান থেকে উত্তর মধ্যপ্রদেশ, উত্তর ছত্তিসগড় ও ওডিশা হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একসঙ্গে এই তিন ওয়েদার সিস্টেমের প্রভাবের ৬ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী (৭–১১ সেমি) থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭–২০ সেমি) সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা আসার কথা। আর এই দিনটায় দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা শুনিয়েছেন আবহবিদরা। এ দিন হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হাওড়া জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোর ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে এ দিন ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, সোমবারও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহবিদরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) সম্ভাবনার। এ ছাড়া এ দিন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের প্রতিটাতেই কলকাতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি পেয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ অঞ্চলের এ বছর বৃষ্টিভাগ্য ততটা ভালো নয়। অন্য দিকে, বাংলার বাইরে বাকি ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভাগে বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম। জুনের শেষে ভারত স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে ৪০ শতাংশ ঘাটতিতে রয়েছে। জুলাইয়ে বৃষ্টির পরিমাণ যত বেশি হবে, সেই ঘাটতি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। এই অবস্থায় তাই বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ওয়েদার সিস্টেম তৈরির জন্য প্রার্থনায় গোটা দেশ। একটি নিম্নচাপ, একটি ঘূর্ণাবর্ত ও একটি মৌসুমি অক্ষরেখা — অর্থাৎ একটির জায়গায় একসঙ্গে তিনটি ওয়েদার সিস্টেম তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির প্রাবল্য বেশি হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্টই।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *