Proof of Citizenship: ১৫টি ডকুমেন্ট জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না! কী বলল হাইকোর্ট? | Assam Migrant Worker Provides 15 Documents to Proof of Citizenship But Guwahati High Court Rejects it, Why He Failed to Prove he is Indian? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Proof of Citizenship: ১৫টি ডকুমেন্ট জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না! কী বলল হাইকোর্ট? | Assam Migrant Worker Provides 15 Documents to Proof of Citizenship But Guwahati High Court Rejects it, Why He Failed to Prove he is Indian?

Spread the love

গুয়াহাটি: ১৫টি নথি দেখিয়েছিলেন নিজের নাগরিকত্ব (Citizenship) প্রমাণ করার জন্য, তবু আদালত মানল না ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি। ঐতিহাসিক রায় গুয়াহাটি হাইকোর্টের (Guwahati High Court)। এক ব্যক্তি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১৫টি নথি দেখিয়েছিলেন কিন্তু তারপরও তিনি প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি ভারতীয় নাগরিক। তাঁকে বিদেশি নাগরিক বলেই ঘোষণা করা হয়।

কী বলল আদালত?

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৫টি নথি জমা দিলেও, পিটিশনার ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৬৪-র ৯ নম্বর ধারার অধীনে প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি বিদেশি নন, ভারতীয় নাগরিক। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, “কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে, তার উপরই দায়িত্ব বর্তায় প্রমাণ করার যে তিনি বিদেশি নন, ভারতীয় নাগরিক।

গত ৩০ জুন গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামিমা জাহানের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলছিল। সেই মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “পিটিশনার ১৫টি নথি প্রমাণ হিসাবে পেশ করলেও, এটি ৯ নম্বর ধারার অধীনে ওই ব্যক্তিকে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে সাহায্য করেনি।”

মামলাটি কী?

অসমের কামরুপের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আমিনুল হক নামক এক ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিল। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দাখিল করেন। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণা করা হয়েছে শুধুমাত্র কিছু নথিতে তাঁর বাবা ও ঠাকুর্দার নামে ভুল ছিল।

ওই ব্যক্তি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, ২০১৭ সালের স্কুল সার্টিফিকেট, ১৯৬৬ সালের একাধিক ভোটার লিস্ট এবং ১৯৫১ ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC) লিস্ট জমা দেন যেখানে তাঁর বাবা ও ঠাকুর্দার নাম উল্লেখ আছে।

তাঁর বাবাও আদালতে গিয়ে বলেন যে ওই ব্যক্তি তাঁর ছেলে। কিন্তু আদালত শুধুমাত্র মৌখিক দাবিকে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আদালত বলে, “গ্রহণযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য এই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।”

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ-

গুয়াহাটি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “আবেদনকারীর বাবার নাম চারভাবে- মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন এবং মহির উদ্দিন হিসাবে উল্লেখ থাকলেও, আবেদনকারীর দাদু ও বাবার নামের বানানে ভোটার তালিকাগুলিতে যে অমিল দেখা যায়, আদালত তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অর্থাৎ মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন এবং মহির উদ্দিন- সবার বাবার নাম পাসান আলি হিসাবে উল্লেখ থাকলেও, আবেদনকারী এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে পরিবারের দাবি করা সদস্যরা অর্থাৎ পাসান আলি, মহিরুদ্দিন কিংবা আবেদনকারী আমিনুল হক, ডোবাকুড়া, ঘুগুডোবা এবং হাসডোবা—এই তিনটি গ্রামের সমস্ত ভোটার তালিকায় ধারাবাহিকভাবে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।”

“দেখা যাচ্ছে, মামলার দুর্বল দিকগুলি ঢাকতে জন্য আবেদনকারী মূলত আদালতে প্রদর্শিত ভোটার তালিকার ওপরই ভিত্তি করে সাফাই দেওয়া হয়েছে। কোনও নথিভিত্তিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছে যে পরিবারটি ডোবাকুড়া থেকে ঘুগুডোবা এবং পরে ঘুগুডোবা থেকে হাসডোবায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। আবার ভোটার তালিকায় নামগুলির মিল দেখানোর জন্যও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সময় ভুল হয়েছিল।”

আদালত আরও উল্লেখ করে যে পিটিশনার হাসডোবা আঞ্চলিক হাইস্কুলের হেডমাস্টারের দেওয়া স্কুল সার্টিফিকেট পেশ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তৈরি করা ওই সার্টিফিকেটে উল্লেখ রয়েছে যে ১৯৯৯ সালে পড়ুয়া স্কুল ছেড়েছিল। যিনি শংসাপত্রটি দিয়েছিলেন, তিনি আদালতে সেটির সত্যতা প্রমাণে বা সমর্থনে হাজিরা দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *