মেসির হোম কামিং বনাম প্রত্যয়ী ভোজ়িনিয়া
মেসির কাহিনিটা অবশ্য পেলের চেয়ে একেবারে অন্য রকম। লোকে জানল, স্ত্রী আন্তোনেলা চান, বাচ্চারা আমেরিকায় পড়াশোনা করুক, সে জন্যই মেসি এলেন মায়ামিতে। এটা একটা কারণ ঠিকই, কিন্তু আসল কারণ ছিল, মেসি দেখতে চেয়েছিলেন, আমেরিকার সামারে তাঁর শরীর লম্বা ম্যাচ খেলার ধকল নিতে পারে কি না। চাঁদমারি ছিল বিশ্বকাপ। অর্থাৎ ৩৬ বছর বয়সে তিন বছর পরের বিশ্বকাপের কথা ভেবে নিজেকে নিঃশব্দে তৈরি করেছেন তিনি। রোনাল্দোর মতো ডায়েট চার্ট বা ফিটনেস রুটিন প্রকাশ্যে আসেনি, ওয়ার্ক এথিক্স নিয়ে হইহই হয়নি, একেবারে নীরবে মেসি অপেক্ষা করেছেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। নিজের শরীর কতটা ধকল নিতে পারবে, তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপটা খেলবেন। কোচ স্কালোনি তাঁর জন্য দরজা খোলাই রেখেছিলেন। ‘আমি এখনও পারি’ বিশ্বাস জিনিয়াসকে পরিশ্রমী সাধকের মতো লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সেটা যদি ‘আমাকে করে দেখাতেই হবে’ হয়ে যায়, তখনই সযত্নে তৈরি করা খ্যাতির সাম্রাজ্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা। যে জন্য বিখ্যাত ক্রীড়াবিজ্ঞানী রুডি ওয়েবস্টার ‘উইনিং ওয়েজ়—ইন সার্চ অফ ইয়োর বেস্ট পারফরম্যান্স’ বইতে বলছেন, ‘আমিই সেরা হুঙ্কার, যেটাকে অনেকে কিলার ইন্সটিংট বলে থাকেন, সেটা আসলে একটা ইগোসর্বস্ব কল্পনা। নিজের ক্ষমতার প্রতি সংশয় থাকলেই সেটা ঘোষণা করতে হয়। প্রকৃত কিলার ইন্সটিংট হল নিঃশব্দ ঘাতক। বহিঃপ্রকাশ একেবারেই থাকবে না, কিন্তু গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনাল বা বিশ্বকাপ ফাইনাল মাথায় রেখে নিজেকে সেখানে ক্রমাগত উইনার হিসেবে ভিস্যুয়ালাইজ করে যাবে।’