চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট পার্টি! ইসির দরবারে ঋতব্রতরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট পার্টি! ইসির দরবারে ঋতব্রতরা

Spread the love

এই সময়, নয়াদিল্লি: ‘আসল তৃণমূল’ কারা, সেই বিতর্কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু রাজধানীতে! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী কালীঘাট–তৃণমূল, কাদের হাতে থাকবে জোড়াফুলের প্রতীক— এ নিয়ে দু’পক্ষের কাছ থেকে লিখিত ভাবে দাবি ও পাল্টা দাবি এবং তার সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ চেয়ে পাঠাল দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— দু’পক্ষকেই তাঁদের দাবির সপক্ষে নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই নথি বিবেচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, ‘আসল তৃণমূল’ কারা! যদিও এই লড়াই আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

এর আগেই দু’পক্ষ তাদের প্রাথমিক বক্তব্য কমিশনের কাছে জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার আবার কমিশনের ফুলবেঞ্চের তলব পেয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত, বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা, অরূপ রায় সমেত ১০ জন প্রতিনিধি দিল্লিতে গিয়ে কথা বলেন ইসি–র কর্তাদের সঙ্গে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারাই ‘আসল তৃণমূল’। এ প্রসঙ্গে গত ২২ জুন নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিদ্রোহী শিবিরের তরফে আয়োজিত স্পেশাল সেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের নথিও জমা দেওয়া হয়। বৈঠক সেরে বেরিয়ে ঋতব্রত ফের নিশানা করেন কালীঘাট শিবিরকে। সরাসরি কারও নাম না–করে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস পার্টিটা পারিবারিক হয়ে গিয়েছিল৷ চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট পার্টি হাইজ্যাক করে নিয়েছিল৷ আমাদের লড়াই ব্যক্তি এবং পরিবারের বিরুদ্ধে। চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাটের কথায় দল চলবে না।’ কারও নাম না–করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্প্রতি চার্টার্ড বিমানে যাতায়াতের বিষয়েই ঋতব্রত কটাক্ষ করেছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের৷ পাল্টা এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এখনও কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ শিবিরের তরফে দুই সাংসদ সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ দাবি করেন, যাঁরা এ দিন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁদের বৈঠকের এক্তিয়ারই নেই।

সূত্রের দাবি, কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে এ দিনের বৈঠকে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক (ঘাসের উপরে জোড়াফুল) এবং দলের তহবিলের মালিকানাও দাবি করেছে ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়ক গোষ্ঠী৷ এই মর্মে যাবতীয় আইনি নথিও পেশ করেছেন তাঁরা, দাবি সূত্রের৷ এই সাক্ষাৎপর্ব সেরে অরূপ রায়, সন্দীপন সাহাদের পাশে নিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরাও আমাদের সঙ্গে আছেন। কাউন্সিলাররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের পাশে রয়েছেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘গত ২২ জুন আমাদের বিশেষ ডেলিগেটদের অধিবেশন হয়েছে। সেখানে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ করা হয় আখরুজ্জামানকে। সেই অধিবেশন সম্পর্কে পর দিনই আমরা কমিশনকে জানাই। আজ কমিশনের ফুলবেঞ্চ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে সময় দিয়েছিল। আমরা দেখা করে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা রাখি, কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ডাক পাব।’ বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠীর গঠিত জাতীয় কর্মসমিতির চেয়ারপার্সন ও বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায় বলেন, ‘কমিশন আমাদের বক্তব্য শুনেছে। কমিশন আমাদের জানিয়েছে, দ্রুত আমাদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখে, যোগাযোগ করবে।’ ঘটনাচক্রে এই সাক্ষাৎপর্বের পরেই বিকেলে সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রত ও মমতা— দু’জনকেই কমিশন চিঠি দিয়ে তাঁদের দাবি লিখিত ভাবে আগামী সোমবারের মধ্যে জানাতে বলেছে।

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা এবং লোকসভার সাংসদ সৌগত এ দিনই ঋতব্রতদের কমিশন-সফরকে ‘অবৈধ’ বলে তোপ দাগেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূল ঋতব্রতদের প্রতিনিধি হিসাবে মনোনীত না-করা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কী ভাবে তাঁদের সময় দিলেন? সৌগতর বক্তব্য, “আজ একটা গোষ্ঠীকে দেখেছি, যারা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া… যাদের নেতাকে তৃণমূল বহিষ্কার করেছিল, তারা নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু এটা কী ভাবে সম্ভব?’ তাঁর সংযোজন, ‘এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, শুধুমাত্র স্বীকৃত প্রতিনিধিরাই ফুলবেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে পারে। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো কোনও মিটিং চাননি। তা হলে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কী ভাবে সাক্ষাতের সময় পেল?’ কালীঘাট শিবিরের হয়ে সৌগতর দাবি, ‘আমরাই তো ঠিক করব, কে আমাদের দলের প্রতিনিধি। এতে জ্ঞানেশ কুমারের কোনও ভূমিকা নেই।’

যদিও ঋতব্রতর পাল্টা বক্তব্য, ‘অনেকে মনে করছেন যে, মগের মুলুক চলছে, তাই যা খুশি বলা যায়! আমরা যা খুশি করিনি। দেশের যে আইনকানুন আছে, সাংবিধানিক বিধি আছে, সবকিছু মেনে, যে ভাবে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়টা জানাতে হয়, সেটাই আমরা জানিয়েছি।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *