আনোয়ার আলি মামলায় চূড়ান্ত শুনানির দিন ঘোষণা! কি বলল ক্রীড়া আদালত?
CAS ১৮ সেপ্টেম্বর আনোয়ার আলির চুক্তি-বিতর্কে চূড়ান্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। রায়ের অপেক্ষায় ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং ভারতীয় ফুটবল মহল।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিতর্ক এখন আনোয়ার আলিকে (Anwar Ali ) ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার নিষ্পত্তির আশায় এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (CAS) গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ১৮ সেপ্টেম্বরকে চূড়ান্ত শুনানির দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফলে ওই দিনই এই বহুলচর্চিত মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে, তা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত দু’মরশুম আগে। ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে মোহনবাগানে যোগ দেন ভারতীয় ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে মোহনবাগান। এরপর বিষয়টি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি ও পরে আপিল কমিটির সামনে ওঠে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও মামলার কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। বারবার শুনানি পিছিয়েছে, অথচ কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
ফেডারেশনের এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মোহনবাগান। গত বছরের নভেম্বরে ক্লাবটি বিষয়টি নিয়ে ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) কাছেও অভিযোগ জানায়। ফিফার তরফে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফেডারেশনের আপিল কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে মামলার শুনানিই করেনি।
শুধু মোহনবাগান নয়, এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ছিলেন আনোয়ার আলিও। তিনি নিজেও এআইএফএফ-কে চিঠি লিখে জানান, মামলার অযথা বিলম্ব তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাদার ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবুও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে হতাশ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হয় মোহনবাগান।
এর আগে প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি আনোয়ার আলির বিরুদ্ধে চার মাসের নির্বাসনের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লি এফসি এবং ইস্টবেঙ্গলকে দুইটি ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন আনোয়ার, দিল্লি এফসি এবং ইস্টবেঙ্গল। আদালতের নির্দেশে মামলার পুনর্বিবেচনা শুরু হলেও তারপরও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি ফেডারেশন।
বর্তমানে আনোয়ার আলি ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতেই খেলছেন। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ এবং এই মামলার প্রভাব শুধু একজন ফুটবলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই রায়ের উপর নির্ভর করছে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এখন সব নজর ১৮ সেপ্টেম্বরের দিকে। সেদিন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের শুনানির পর আনোয়ার আলির চুক্তি-বিতর্কে কোন সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই দেখার অপেক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার অবসান ঘটবে কি না, সেই উত্তর মিলতে পারে ওই দিনই। ভারতীয় ফুটবল মহলও তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত পরিণতির জন্য।