চার বছর পরে মুম্বইয়ে খোঁজ মিলল হাওড়ার মহিলার
এই সময়, হাওড়া: দীর্ঘ চার বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পরে অবশেষে মুম্বইয়ে খোঁজ মিলল হাওড়ার উলুবেড়িয়ার এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার। পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের উদ্যোগে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। তবে তাঁকে ঘিরে পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উলুবেড়িয়া পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গারামপুর এলাকার বাসিন্দা আসমিরা বেগমের স্বামী, এক প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ও এক কিশোরী মেয়ে রয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জেরেই তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, স্বামীর বিরুদ্ধে অতীতে পুলিশি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
আসমিরার ভাই শেখ সাহালাম আলি (খোকন) বলেন, ‘বোন বাড়ি ছেড়ে বার বার বেরিয়ে যেতেন। ২০২৪ সালে তিনি গুজরাটের ভুজ শহরে পৌঁছে যান। সেখানে ‘মানব জ্যোতি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় থানার মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি নিজে, মেয়ে ও ভাইকে নিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র–সহ গুজরাটে গিয়ে বোনকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু কিছু দিন পরে তিনি আবার নিখোঁজ হয়ে যান। পরে হাওড়ার সাঁতরাগাছি এলাকা থেকে তাঁকে ফের উদ্ধার করে বাপের বাড়িতে রাখা হলেও, দেড় বছরের মধ্যেই আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
সম্প্রতি মুম্বইয়ের শিবাজীনগর টার্মিনাস রেল স্টেশন এলাকায় তাঁর অস্বাভাবিক আচরণ নজরে আসে রেল পুলিশের। উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করানো হয় এবং পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে একটি সুরক্ষা হোমে রাখা হয়। গত প্রায় দু’বছর ধরে তিনি সেখানেই রয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলতেন। সেই সূত্র ধরে হোম কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরে আসমিরার পরিবারের সন্ধান মেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে যোগাযোগও করানো হয়েছে। চার বছর পরে মায়ের খোঁজ পেয়ে তাঁর মেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন।
তবে আসমিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তাঁর ভাই বলেন, ‘দু’বার গুজরাট ও সাঁতরাগাছি থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনেছি। কিন্তু বার বার বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এ বারও আমি সহযোগিতা করব।’
তিনি অভিযোগ করেন, আসমিরার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপ অবস্থায় তাঁর দিদিকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন। সেই নির্যাতনের ফলেই তাঁর মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, আসমিরা সুস্থ হলে তাঁকে নিজের বাড়িতে রাখার দায়িত্ব নিতে তাঁরা প্রস্তুত। অন্য দিকে, স্বামীর পরিবার তাঁকে ফিরিয়ে নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের পক্ষ থেকে মুম্বই প্রশাসনের কাছে আসমিরার যথাযথ মানসিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়েছে। সংস্থার আশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।