কলকাতার খুব সামনেই রয়েছে আরেক ‘গ্রিন ল্যান্ড’, কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন? | Sabuj dweep balagarh travel guide from Kolkata
ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গল, ট্রাফিকের ক্লান্তি আর চেনা ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে মন একটু সবুজের খোঁজ করে বৈকি! কিন্তু দু-তিন দিনের ছুটির অভাব আর লম্বা সফরের ক্লান্তির কথা ভেবে অনেকেই শেষমেশ ঘরেই বন্দি থেকে যান। তবে কলকাতা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই যে লুকিয়ে রয়েছে এক টুকরো ‘গ্রিন ল্যান্ড’ বা সবুজ দ্বীপ, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। গঙ্গার বুকে জেগে ওঠা এক অপরূপ চড়া, যা আজ পর্যটকদের কাছে অন্যতম সেরা উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। হুগলি জেলার বলাগড়ের কাছে অবস্থিত এই ‘সবুজ দ্বীপ’ (Sabuj Dweep) আপনার ক্লান্তি দূর করে মনে এনে দেবে এক অনাবিল শান্তি।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ এবং একপাশে শান্ত গঙ্গার বয়ে চলা— সব মিলিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই যেন এক অন্য পৃথিবী।
কী আছে এই ‘গ্রিন ল্যান্ড’-এ?
হুগলি নদীর বুকে পলি জমে তৈরি হওয়া এই দ্বীপটি রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতরের উদ্যোগে এক দারুণ ইকো-ট্যুরিজম পার্ক হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রায় কয়েকশো বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপে রয়েছে পাম, মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, এবং পাইন গাছের ঘন জঙ্গল। চারিদিকের এই ঘন সবুজ চাদরের কারণেই একে অনায়াসে বাংলার ‘গ্রিন ল্যান্ড’ বলা চলে।
দ্বীপে রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সুন্দর বাঁধানো রাস্তা, শিশুদের খেলার পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার এবং বসার জায়গা। ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে একদিকে গঙ্গার বিস্তীর্ণ রূপ এবং অন্যদিকে ঘন সবুজের মেলবন্ধন চোখ জুড়িয়ে দেয়। শীতকালে বা বর্ষার ঠিক পরে এখানে নানা পরিযায়ী পাখির মেলা বসে। ফটোগ্রাফিপ্রেমী বা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই জায়গা যেন এক স্বর্গোদ্যান।
কলকাতা থেকে সড়কপথ এবং রেলপথ— দুই মাধ্যমেই খুব সহজে এবং অত্যন্ত কম খরচে সবুজ দ্বীপে পৌঁছানো যায়।
রেলপথে: হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কাটোয়া বা ব্যান্ডেল লোকাল ধরুন। আপনাকে নামতে হবে সোমরাবাজার (Somrabazar) অথবা বলাগড় (Balagarh) স্টেশনে। স্টেশন থেকে টোটো বা রিকশা নিয়ে চলে আসুন সবুজ দ্বীপ ঘাটে বা শুকরিয়া ঘাটে। সেখান থেকে ভটভটি বা নৌকোয় চড়ে মাত্র ১০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন মূল দ্বীপে।
সড়কপথে: কলকাতা থেকে ডানকুনি হয়ে অসম রোড (STKK Road) ধরে সোজা বলাগড়ের সোমরাবাজার চলে আসা যায়। কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার। গাড়ি বা বাইকে সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ঘাটে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে।
সবুজ দ্বীপ মূলত একবেলার বা ডে-আউটিংয়ের (Day Outing) জন্য আদর্শ। তবে আপনি যদি প্রকৃতির মাঝে একটা রাত কাটাতে চান, তবে তারও ব্যবস্থা রয়েছে।
থাকার জায়গা: দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) অধীনে সুন্দর কটেজ ও সরকারি গেস্ট হাউস রয়েছে। তবে এখানে থাকতে গেলে আগে থেকে রাজ্য পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট বা অফিস থেকে বুকিং করে যাওয়া আবশ্যক। এছাড়া বলাগড় বা গুপ্তিপাড়ার কাছাকাছি কিছু বেসরকারি লজ ও রিসোর্টও পেয়ে যাবেন।
খাওয়া-দাওয়া: দ্বীপের ভেতরেই রয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিচালিত রেস্তোরাঁ ও ক্যানটিন। সেখানে দুপুরের সাধারণ বাঙালি থালি (ভাত, ডাল, সবজি ও টাটকা মাছের ঝোল) খুব কম খরচেই পেয়ে যাবেন।
জরুরি তথ্য: সবুজ দ্বীপে ঢোকার জন্য মাথাপিছু নামমাত্র প্রবেশমূল্য (Entry Fee) দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখবেন, এটি একটি সংরক্ষিত পরিবেশ-বান্ধব অঞ্চল বা ইকো-জোন। তাই প্লাস্টিক বা নোংরা ফেলে এই ‘গ্রিন ল্যান্ড’-এর সৌন্দর্য নষ্ট না করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।
চলতি সপ্তাহান্তেই (Weekend) ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। নামমাত্র খরচে সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে গঙ্গার হাওয়া আর পাখির কলকাকলি আপনার সোম থেকে শুক্রের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষেই ধুয়ে মুছে দেবে।