নজরে ভারত-জাপান সম্পর্ক! মোদী সাক্ষাতে ৩ দিনের সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী
নয়াদিল্লি: নজরে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক। (Annual Summit)এই সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে বুধবার…
নয়াদিল্লি: নজরে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক। (Annual Summit)এই সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে বুধবার (১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর, ফলে এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আগামী ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ অষ্টম পে কমিশন নিয়ে উত্তেজনা! ৩.৮৩ ফিটমেন্টের দাবি কর্মচারীদের
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এবং বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ভারত সরকারের তরফে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সাপ্লাই চেইন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP) অঞ্চলে দুই দেশের যৌথ কৌশল। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত ও জাপান উভয় দেশই প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হতে চলেছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা যাচ্ছে। ভারত ও জাপান ইতিমধ্যেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রশ্নেও দুই দেশের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। ফলে এই ক্ষেত্রেও নতুন কিছু উদ্যোগ বা সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে এলএনজি (LNG) জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও জাপান উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ‘ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এও অংশ নেবেন। সেখানে ১০০-রও বেশি জাপানি শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত থাকবেন। ভারতের উৎপাদন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।