হুট করে ১০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললে ত্বকে কী প্রভাব পড়ে জানেন?
ওজন ১০ কেজি কমানো নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বিশেষ করে আজকের দিনে যখন ওবেসিটি জনস্বাস্থ্য সমস্যারগুলির মধ্য অন্যতম, তখন ওজন কমানো সত্যিই বঢ় চ্যালেঞ্জ। এতে শরীর হালকা লাগে, চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য আসে এবং আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কমে যায় একগুচ্ছ রোগের ঝুঁকি। কিন্তু এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আমাদের শরীরেই নয়, ত্বকের উপরেও পড়ে।
ত্বকের উপর কী প্রভাব

অনেকেই দেখেন ওজন কমানোর পর ফিরে এসেছে তাঁর ত্বকের উজ্জ্বলতা। ঠিক এর উল্টো ছবিটাও একই ভাবে অতি সাধারণ বিষয়, অর্থাৎ কারও ক্ষেত্রে আবার দেখা দেয় ত্বক ঢিলে হয়ে গিয়েছে বা মুখের গঠনেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সবই শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ। ওজন কমানো শরীরের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। ত্বকের সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, কত দ্রুত ওজন কমানো হয়েছে এবং খাদ্যাভ্যাস— এই সব বিষয় আমাদের ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। আপনি ওজন কমালে ত্বকে কী কী প্রভাব পড়ে?
ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া

ওজন কমানোর পর সবচেয়ে সাধারণ যে পরিবর্তন দেখা যায়, তা হলো ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া। শরীরের ওজন বাড়লে ত্বকও প্রসারিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় থাকলে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন ফাইবার দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত ওজন কমলে ত্বক সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে না। পেট, বাহু, ঊরু এবং মুখে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
মুখমণ্ডলের উপর প্রভাব

মুখের ক্ষেত্রেও ওজন কমার প্রভাব স্পষ্ট দেখা দেয়। গালের হাড় ও চোয়ালের রেখা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। তবে মুখের চর্বি দ্রুত কমে গেলে মুখ কিছুটা বসে যাওয়া বা বয়সের তুলনায় বেশি ক্লান্ত দেখাতেও পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন।
ওজন কমানোর সুফল

ওজন কমানোর সুফলও কম নয়। অতিরিক্ত ওজন কমলে শরীরের প্রদাহ কমে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ত্বক আরও পরিষ্কার, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর দেখাতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চিনি ও হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার কম খেলে ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও কমতে পারে।
স্ট্রেচ মার্কস

অনেকেই মনে করেন ওজন কমলে স্ট্রেচ মার্কস চলে যাবে। বাস্তবে কিন্তু তা হয় না। বরং আশপাশের চর্বি কমে যাওয়ায় প্রথম দিকে স্ট্রেচ মার্কস আরও বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো সাধারণত ফিকে হয়ে আসে।
ওজন কমানোর পদ্ধতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে কী ভাবে ওজন কমানো হচ্ছে তার উপর। পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিপরীতে, ক্র্যাশ ডায়েট ত্বককে শুষ্ক, নিস্তেজ ও দুর্বল করে তুলতে পারে।
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং, পর্যাপ্ত জলপান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর পর নিখুঁত ত্বক পাওয়ার জন্য ধৈর্য রাখা প্রয়োজন। ত্বকও শরীরের মতোই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নেয়।