আবারও শিরোনামে বালুরঘাটের নীতা হাঁসদা, কিন্তু তিনি গেলেন কোথায়?
আবাসের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ। বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার নীতা হাঁসদার বিরুদ্ধে ফের পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলো। রবিবার বালুরঘাট পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিন বাসিন্দা বালুরঘাট থানায় নীতার নামে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। যদিও এর আগে যখন নীতার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে, সেই সময়েই বালুরঘাটের পাট চুকিয়ে রাতারাতি অন্য জায়গায় চলে যান সপরিবারে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, ২০১৯ সালে নীতা হাঁসদার বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সরকারি আবাস-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন নীতা।
সেই সময়ে একাধিক ভুক্তভোগী পুরসভা ও পুলিশের কাছে লিখিত ভাবে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পরে পুরবোর্ডে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরে নীতা হাঁসদা এলাকা ছেড়ে চলে যান। স্থানীয়দের দাবি, গত সাত-আট বছরে তাঁকে আর শহরে দেখা যায়নি। এ ছাড়া তিনি যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে আর যোগ দেননি।
এ বিষয়ে অন্য এক অভিযোগকারী মঞ্জরী দেবনাথ বলেন, ‘২০১৮ সালে আবাস যোজনার সরকারি ঘর পাওয়ার আশায় আমি তৎকালীন কাউন্সিলার নীতা হাঁসদাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ঘরের জন্য কাটমানি দিলেও ঘর পাইনি। সেই সময়ে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। এ বার সরকার কড়া। এখন সকলে টাকা ফেরত দিচ্ছে। ঘর তো আর পাব না। তাই টাকা যাতে ফেরত পাই, তার জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালাম।’
বালুরঘাট থানার তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরে এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।