১৮০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরে আজও জলের তলায় থাকে শিবলিঙ্গ, জানেন কি জম্বুকেশ্বর মন্দিরের রহস্য?
নামের পিছনে রয়েছে লোককথা
জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক সময় একটি জামগাছের (জম্বু) নীচে শিবলিঙ্গ ছিল। সেখানে একটি হাতি প্রতিদিন জল ঢেলে শিবের পুজো করত। অন্যদিকে একটি মাকড়সা জাল বুনে শিবলিঙ্গকে রোদ ও ধুলো থেকে রক্ষা করত। মহাদেব তাঁদের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে মোক্ষ দান করেন। এই থেকেই ‘জম্বুকেশ্বর’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
দুপুরের পুজোয় আজও মানা হয় বিরল প্রথা
এই মন্দিরের একটি বিশেষ রীতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। প্রতিদিন দুপুরের পুজোয় প্রধান পুরোহিত দেবী অখিলাণ্ডেশ্বরীর প্রতীক হিসেবে শাড়ি পরে শিবের আরাধনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই স্থানে দেবী পার্বতী নিজেই শিবের কাছে তপস্যা ও পুজো করেছিলেন।
শিলালিপিতে লুকিয়ে ইতিহাস
প্রত্নতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী, এই মন্দিরে ১৫০টিরও বেশি শিলালিপি রয়েছে। এর মধ্যে নবম থেকে ত্রয়োদশ শতকের চোল রাজাদের অনুদান, সংস্কার এবং মন্দির পরিচালনার নানা তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাই এটি শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস গবেষণারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
আজও অটুট ভক্তি
প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এই মন্দিরে দর্শনে আসেন। অনেকের বিশ্বাস, জম্বুকেশ্বরের আরাধনা করলে জীবনের বাধা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক অশান্তি দূর হয়। ইতিহাস, স্থাপত্য, পুরাণ ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে আজও সমান জনপ্রিয় এই প্রায় ১৮০০ বছরের প্রাচীন শিবমন্দির।