Prosenjit Chatterjee: ভয়ানক! প্রসেনজিতের ঠোঁটে চুমু খেয়ে মাংস ছিঁড়ে নিল পুরুষ অনুরাগী | Prosenjit chatterjee shares shocking fan moment from purushottam movie promotion
টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলে কথা! তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপোলি পর্দায় তাঁর একাধিপত্য। তাঁর এক চিলতে হাসিতে যেমন কুপোকাত হন অনুরাগীরা, তেমনই তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয়ে তালি, সিটি পড়ে সিনেমা হলে। বুম্বাদা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের স্টারডম আর ফ্যান ফলোয়িং নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তারকা হওয়ার যেমন আলাদা মহিমা রয়েছে, তেমনই রয়েছে কিছু অদ্ভুত বিড়ম্বনাও। ভক্তদের ভালোবাসার চোটে যে মাঝেমধ্যে কেমন হাড়হিম করা পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, সম্প্রতি তেমনই এক বিস্ফোরক ও মজাদার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন খোদ টলিপাড়ার ‘বুম্বাদা’।
ঘটনাটি আজকের নয়, একেবারে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের। ১৯৯২ সালে বক্স অফিসে রমরমিয়ে চলছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সুপারহিট ছবি ‘পুরুষোত্তম’। এই ছবিতে তাঁর নায়িকা দেবশ্রী রায়। একেবারে মার মার কাট কাট ছবি। রোমান্স, অ্য়াকশন, অভিনয়ে তখন পুরুষোত্তম ছবির টিকিট নিয়ে হইচই। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে ছবির প্রচারের জন্য ডানলপের বিখ্যাত ‘সোনালী’ সিনেমা হলে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা। প্রিয় তারকাকে চোখের সামনে দেখতে হল চত্বরে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রসেনজিৎকে একঝলক ছুঁয়ে দেখতে, তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া বলয় পেরিয়ে বুম্বাদার দিকে এগিয়ে আসছিল একের পর এক হাত। ঠিক সেই উন্মাদনার মাঝেই ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ড।
কী ঘটেছিল?
ভিড়ের মধ্য থেকে আচমকাই এক পুরুষ অনুরাগী ছিটকে চলে আসেন প্রসেনজিতের একেবারে কাছাকাছি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রিয় অভিনেতার প্রতি ভালোবাসার আবেগে অন্ধ হয়ে তিনি সোজা বুম্বাদার ঠোঁটে এক মারাত্মক চুমু খেয়ে বসেন! শুধু চুমু খাওয়া বললে ভুল হবে, সেই ভালোবাসার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ওই ব্যক্তির দাঁতের কামড়ে প্রসেনজিতের ঠোঁটের খানিকটা মাংস কেটে রীতিমতো ঝুলে পড়েছিল। রক্তের ফিনকি ও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তখন ছটফট করছেন পর্দার ‘পুরুষোত্তম’।
সম্প্রতি এক আড্ডায় পুরোনো দিনের সেই রোমহর্ষক স্মৃতির কথা রোমন্থন করে হেসে ফেলেছেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রুপোলি পর্দার রোম্যান্টিক হিরোর চকোলেট বয় ইমেজ যে পর্দার বাইরে ভক্তদের মনে ঠিক কতটা গভীর দাগ কেটেছিল, এই ঘটনা তারই এক অদ্ভুত প্রমাণ। বুম্বাদা জানান, ভক্তদের এই উন্মাদনা যেমন একদিকে ভয়ের, তেমনই অন্যদিকে অত্যন্ত প্রাপ্তিরও। অনুরাগী পুরুষ হোন কিংবা নারী— টলিউডের বাদশাকে নিয়ে তাঁদের এমন ‘কামড়’ দেওয়া ভালোবাসার গল্প সত্যিই টলিপাড়ার ইতিহাসে চিরকাল এক মুচমুচে ট্র্যাডিশন হয়েই থেকে যাবে।