4000 বছরের কাজলের ইতিহাস! সৌন্দর্যের বাইরে ছিল আরও কাজ
প্রকৃতির তৈরি সানগ্লাস
ভারতের গরম আবহাওয়া এবং ধুলোময় পরিবেশে চোখের সুরক্ষা ছিল অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক যুগের সানগ্লাস তখন ছিল না। তাই চোখের চারপাশে গাঢ় কালো কাজলের আস্তরণ ব্যবহার করা হতো সূর্যের তীব্র আলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো রং সূর্যের ঝলকানি শোষণ করে চোখে আলো প্রতিফলনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে চোখে কম চাপ পড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করলেও অসুবিধা হয় না। পাশাপাশি কাজলের তেল ও ঘিয়ের আঠালো স্তর বাতাসে উড়ে আসা ধুলো, পরাগরেণু এবং ক্ষুদ্র পোকামাকড়কে আটকে রাখত, যা চোখকে সংক্রমণ ও অস্বস্তি থেকে রক্ষা করত।
‘নজর’ থেকে রক্ষা
ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘বুড়ি নজর’ বা কুদৃষ্টির ধারণা বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত। প্রচলিত বিশ্বাস, অতিরিক্ত সৌন্দর্য, সুখ বা সাফল্য অন্যের ঈর্ষার কারণ হতে পারে এবং তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে জীবনে। তাই চোখকে নেতিবাচক শক্তির প্রবেশদ্বার বলে মনে করা হতো। এই কারণেই চোখে মোটা করে কাজল পরার রীতি গড়ে ওঠে। বিশ্বাস, কালো কাজল অশুভ শক্তি ও কুদৃষ্টি শোষণ করে নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করে। এখনও নবজাতকের কপালে বা কানের পিছনে কালো টিপ দেওয়ার প্রথা এবং বিয়ের দিনে কনের চোখে গাঢ় কাজল পরানোর রেওয়াজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে?
শুধু লোকবিশ্বাস বা প্রাচীন প্রথা বলেই কাজলের গুরুত্বকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আধুনিক গবেষণাও এর কিছু উপকারিতার পক্ষে প্রমাণ দিচ্ছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, কাজলের কিছু উপাদানে প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। গবেষকরা চোখের একটি সাধারণ প্রদাহজনিত সমস্যা ব্লেফারাইটিসের চিকিৎসায় কাজল এবং আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক মলমের কার্যকারিতা তুলনা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, কাজল প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই কাজল শুধু সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, স্বাস্থ্যচর্চা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিশ্বাস। প্রতিদিন চোখে কাজল পরার অভ্যাস আসলে প্রাচীন ভারতের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে।