‘আপনারা সব…’, ভারতকে অপমান বাংলাদেশি কর্মীর, রুখে দাঁড়ালেন তরুণীরা, তার পরে…
প্রাচীন স্থাপত্য আর রোম্যান্টিক অলিগলির টানে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতীয় একদল মহিলা। কিন্তু সেখানে যে এমন ভারত-বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে স্বপ্নেও ভাবেননি তাঁরা। দেশের অপমান মুখ বুজে সহ্যও করেননি ওই মহিলারা। ক্ষমা চাইয়ে ছেড়েছেন।
ইনস্টাগ্রামের ‘@khushicupcake5’ হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পটভূমি ইতালির এক রেস্তোরাঁ। সেখানে কর্মরত এক বাংলাদেশি কর্মী আচমকাই ভারত ও ভারতীয়দের সংস্কৃতি নিয়ে অশালীন ও অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। নিজের দেশ সম্পর্কে এমন কদর্য শব্দপ্রয়োগ শুনে মুহূর্তের মধ্যে গর্জে ওঠেন ভারতীয় মহিলারা।
বিতর্ক যখন চরমে, তখন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে ওই রেস্তোরাঁ কর্মী অহংকারের সুরে বলে ওঠেন, ‘পুলিশ ডাকুন, আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি।’ কিন্তু সেই ঔদ্ধত্যকে এক লহমায় গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় এক তরুণী পাল্টা হুঙ্কার ছাড়েন, ‘এ কী ভাষা আপনার। প্রথমত, আমরা মহিলা, সম্মান দিয়ে কথা বলুন। আর নিজের দেশকে নিয়ে এমন মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করব না।’
অভিযোগ, পিছু হঠার বদলে ওই কর্মী আবারও ভারতকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা পরিস্থিতি। ভিনদেশে গিয়েও ভারতীয় মহিলাদের সাহসিকতায় চিড় ধরেনি একচুলও। তাঁরা ক্রমাগত সেই কর্মীর বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাতে থাকেন।
অবশেষে নাটকের যবনিকা টানতে ঘটনাস্থলে হাজির হয় ইতালীয় পুলিশ। তাদের সামনে আইনি মারপ্যাঁচে পড়ার ভয়ে নিমেষের মধ্যে জল হয়ে যায় ওই কর্মীর সমস্ত আস্ফালন। পুলিশের উপস্থিতিতে বাধ্য হয়ে, মাথা হেঁট করে ভাঙা গলায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ভারতকে অপমান করার জন্য আমি দুঃখিত।’ যদিও বহু নেটিজেনের মতে, এই ক্ষমাপ্রার্থনা মোটেই আন্তরিক ছিল না, ছিল কেবলই পুলিশের হাত থেকে বাঁচার আকুল আকুতি।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছে। ভিনদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের মাতৃভূমির সম্মান রক্ষা করতে যে ভাবে এই তরুণীরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তা প্রতিটি ভারতীয়র বুক গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। কমেন্ট সেকশনে উপচে পড়ছে প্রশংসার জোয়ার। কেউ লিখেছেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ আবার কেউ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অনেকে আবার বলছেন, সুদূর ইতালির মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় একদল নারী প্রমাণ করে দিলেন, তেরঙ্গার অসম্মানে প্রতিটি ভারতীয়র ধমনীতে একই রকম আগুন জ্বালিয়ে দেয়।