প্রতি সপ্তাহে টোটোপাড়ায় রেশন, বাজেটে ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর, খুশি ওঁরা
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এতদিন চাল ও আটা পেতেন ওঁরা। অভিযোগ, টোটো জনগোষ্ঠীর হাতে না-পৌঁছে মাঝপথে উধাও হয়ে যেত সেই খাদ্যসামগ্রী। সোমবার বাজেটে টোটো, লোধা, শবরদের জন্য প্রতি সপ্তাহে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, লবণ ও আলু দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেই খবর পেয়েছেন ভুটানের তাদিং পাহাড়ের বাসিন্দারা। তবে খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কারচুপি রুখতে প্রত্যেকের ছবি অনলাইনে আপলোড করে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। তার সঙ্গে ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে। ব্লক প্রশাসন যাতে এ সব তথ্য তৈরি করে দ্রুত জেলা প্রশাসনকে পাঠায়, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে টোটোপাড়া-বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে এই কাজে লাগানো হবে।
আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট ব্লকে টোটো পাড়া। ২০১১-র জনগণনা অনুসারে টোটো জনজাতির সংখ্যা ১৬৮০ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যাত প্রায় দু’হাজার ছুঁয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁদের প্রতি মাসে মাথাপিছু ১৪ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা দেওয়া হতো। পরে আটার পরিবর্তে মাথাপিছু ৫ কিলো গম দেওয়া শুরু হয়। বিজেপি সরকার পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নতুন করে যে ভাবনাচিন্তা করেছে, স্বাগত জানিয়েছে টোটো সমাজ। টোটো জনকল্যাণ সমিতির সম্পাদক বকুল টোটো বলেন, ‘রাজ্য সরকার আমাদের জন্য যে ব্যবস্থা করতে চলেছে, তাতে আমরা উচ্ছ্বসিত। কারণ রাজ্যের একপ্রান্তের এই দুর্গম টোটোপাড়ায় জীবিকা বলতে কৃষিকাজ আর গবাদিপশু পালন। স্বাভাবিক ভাবেই এখানকার অবস্থা আর পাঁচটা জনপদের মতো নয়। আমাদের যে ভাবে কষ্ট করে বাঁচতে হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনতার এত বছর পরে এই প্রথম রাজ্য সরকার আমাদের দুর্দশা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে। এটা খুবই সদর্থক চিন্তার প্রতিফলন।’
তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতি বছর দেশের প্রিমিটিভ ক্লাস বা আদিম সমাজের মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে বরাদ্দ পাঠায়, তার ছিটেফোঁটাও আজ অবধি আমরা পাইনি। কখনও জেলা প্রশাসন আবার কখনও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় ওই আর্থিক বরাদ্দ এলেও, আমরা তার সুফল পাইনি। আমরা চাই, ওই আর্থিক নয়ছয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক।’
টোটো জনজাতিরা চাইছেন রাজ্য সরকার এ বার তাঁদের জন্য পৃথক বোর্ড তৈরি করুক। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, ‘সবে তো কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে টোটোপাড়াকে ঢেলে সাজাতে আরও প্রচুর জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের ডাবল ইঞ্জিন সরকার এই কাজ করবে।’