দায়িত্বশীল বিরোধী হতে প্রতিযোগিতা দুই তৃণমূলে, কটাক্ষ বিজেপির
এই সময়: দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করছেন কারা— সোমবার বিধানসভায় কার্যত তারই প্রতিযোগিতা চলল কালীঘাট তৃণমূল আর বিদ্রোহী তৃণমূলের মধ্যে!
সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করেন। যে বাজেটকে সার্টিফিকেট দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘এই বাজেট নিয়ে বিরোধীদের কিছু বলার থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ, এই বাজেটে কিছুই বাদ যায়নি।’
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল অবশ্য চুপ করে থাকেননি। তারা বাজেট নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছে। তবে তাদের প্রশ্ন রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে নাকি, তৃণমূলের অন্দরের বিভিন্ন শিবিরের আস্তিত্ব জানান দেওয়ার লড়াই, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, এ দিন বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শেষে আলাদা ভাবে প্রেস কর্নারে সাংবাদিক বৈঠক করে বিদ্রোহী তৃণমূল এবং কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা তৃণমূলের বিধায়করা। বিজেপির এক প্রবীণ বিধায়কের কথায়, ‘ওরা (তৃণমূলের দুই শিবির) আমাদের বিরুদ্ধে বলার জন্য প্রেস মিট করেনি এ দিন। নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেদের লড়াই করার জন্য করেছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ লড়াই নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।’
তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এ দিন, তৃণমূলের দুই শিবিরই নিজেদের দায়িত্বশীল বিরোধী হিসেবে প্রজেক্ট করতে চেয়েছে। খাতায়–কলমে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী তৃণমূলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা অন্ধ বিরোধিতা করব না। ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত। এটা প্রয়োজন ছিল। চা বাগানের জন্য যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ভালো। তবে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। তা বাজেট নিয়ে আলোচনার দিন বলব।’
তার আগে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ একই জায়গায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘আমরা নতুন সরকারকে সময় দিতে চাই। তারা সবে ক্ষমতায় এসেছে। বাজেটে যে ইতিবাচক বিষয়গুলির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়িত করতে পারলে গঠনমূলক সহযোগিতা চলবে। যদি দেখা যায়, বলা আর কাজের মধ্যে সঙ্গতি নেই, তা হলে বিরোধিতা হবে।’ একই সঙ্গে কুণালের খোঁচা, ‘এ দিন বাজেট পেশের সময়ে এতবার অর্থমন্ত্রীর মুখে কেন্দ্রীয় সরকার শুনলাম, যে মাঝেমধ্যে গুলিয়ে যাচ্ছিল কেন্দ্রীয় বাজেট শুনছি কি না।’ তাঁর সংযোজন, ‘বাজেটে অনেক খরচের কথা বলা হলেও টাকা কোথা থেকে আসবে, তার কোনও উল্লেখ নেই।’ অন্য দিকে, বাজেট প্রসঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূলের সদস্য তথা বিরোধী সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘একটা সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করা হয়েছে এই বাজেটে। আগেরবার ৫,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। এ বার তা কমে হয়েছে ২,৭০০ কোটি। এটা পিছিয়ে পড়াদের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ।’