‘যুদ্ধ নিশ্চিত’! ভারতকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পাকিস্তানের, কেন?
ইসলামাবাদ: সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও চরমে। ভারতের পদক্ষেপে যদি পাকিস্তানের জল-নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ করতেও পিছপা…
ইসলামাবাদ: সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও চরমে। ভারতের পদক্ষেপে যদি পাকিস্তানের জল-নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ করতেও পিছপা হবে না ইসলামাবাদ। রবিবার ঠিক এই ভাষাতেই ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই জল-বিবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের। (India Pakistan Indus Water Treaty Dispute)
পাকিস্তানের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ জল-সঙ্কটকে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, সিন্ধু অববাহিকার জলে পাকিস্তানের অধিকার খর্ব হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, আর জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমরা নিশ্চিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামব।”
হুঁশিয়ারির কারণ কী?
সম্প্রতি ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি মন্তব্যের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আগামী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধু নদীর জলপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। দেশের প্রবল জলসঙ্কটের মধ্যে এই খবর পৌঁছতেই তড়িঘড়ি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। আসিফ জানান, ভারত যদি চুক্তির বাইরে গিয়ে দ্রুত নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তান বসে থাকবে না।
চুক্তির পটভূমি ও বর্তমান সঙ্কট
১৯৬০ সালের বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, এই অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ জল পায় পাকিস্তান। সে দেশের কৃষি, সেচ ও সার্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর কড়া পদক্ষেপ করে নয়াদিল্লি। এই হামলার পিছনে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হাত থাকার অভিযোগে ভারত এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করছে, ততদিন এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা
চুক্তি বাতিলের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে সরব হয়েছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি করেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার। পাশাপাশি, ভারতের বিরুদ্ধে চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর জল ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন নদী-সংযোগ প্রকল্পের অভিযোগও তুলেছে ইসলামাবাদ। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ তীব্র জলসঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের কাছে সিন্ধু জল-বিবাদ এখন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।