ব্রিটিশ রাজনীতিতে ফের ডামাডোল! ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রিটিশ রাজনীতিতে ফের ডামাডোল! ইস্তফা দিলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার

Spread the love

লন্ডন: দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে অবশেষে মাথা নত করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার (Keir Starmer)। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা…

লন্ডন: দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে অবশেষে মাথা নত করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার (Keir Starmer)। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। এই পদত্যাগের ফলে গত এক দশকে এই নিয়ে মোট সাত জন প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ব্রিটেন, যা গত প্রায় দু’শো বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বদলের রেকর্ড। (Keir Starmer quits as UK PM)

এ দিন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের (10 Downing Street) বাইরে স্ত্রী-কে পাশে নিয়ে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ৬৩ বছর বয়সি স্টার্মার। উপস্থিত জনতার হাততালি ও উল্লাসের মাঝেই তিনি বলেন, “আমি যে দেশটিকে ভালোবাসি, তাকে সর্বাগ্রে রাখাই আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। আর সেই কারণেই আমি আজ পদত্যাগ করছি।” দু’বছর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের দিনটিকে জীবনের ‘সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন।

সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির (Labour Party) বিপুল জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্টার্মার তাঁর সরকারের একাধিক সাফল্যের দাবি করেন। তিনি জানান, তাঁর আমলে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটেছে, মূল্যবৃদ্ধির হারকে ছাপিয়ে টানা মজুরি বেড়েছে এবং ছোট নৌকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ কমেছে।

“আমাদের অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি মাসে মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত হারে মজুরি বেড়েছে,” দাবি স্টার্মারের।

এছাড়া, শিশু দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) ওয়েটিং লিস্ট কমানো এবং শ্রমিক ও ভাড়াটেদের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলিকেও নিজের সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

কেন ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন স্টার্মার?

সাফল্যের দাবি করলেও, গত কয়েক মাস ধরেই লাগাতার বিতর্কের জেরে স্টার্মারের ওপর চাপ বাড়ছিল।লেবার পার্টির অন্দরে এবং বাইরে সমালোচকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি স্টার্মার দিয়েছিলেন, তা পূরণে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

লেবার পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (Andy Burnham) সদ্য একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করার পরেই স্টার্মারের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় যখন লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা (হাউস অফ কমন্সের প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধি) প্রকাশ্যে স্টার্মারের পদত্যাগ বা তাঁর বিদায়ের স্পষ্ট রূপরেখা দাবি করেন।

জনপরিষেবার বেহাল দশা, আর্থিক সঙ্কট এবং বেআইনি অনুপ্রবেশের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলি সমাধানে পর পর সরকারের ব্যর্থতার কারণেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে এমন ঘনঘন পালাবদল ঘটছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *