হিন্দু সনাতনীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও জামাতের - 24 Ghanta Bangla News
Home

হিন্দু সনাতনীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও জামাতের

Spread the love

ঢাকা: হিন্দু সনাতনীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জামায়াতে (Jamaat)ইসলামীসহ একাধিক ইসলামপন্থী দলের নেতৃত্বে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার ঢাকায় এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জামায়াত…

ঢাকা: হিন্দু সনাতনীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জামায়াতে (Jamaat)ইসলামীসহ একাধিক ইসলামপন্থী দলের নেতৃত্বে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার ঢাকায় এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জামায়াত নেতারা ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিকৃতিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নতুন রাজনৈতিক মোর্চা ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন।

এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের কর্মী-সমর্থকরা ঢাকার রাস্তায় বড় মিছিল নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকাতে সক্ষম হয়। মিছিল থেকে ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং অমিত শাহের প্রতিকৃতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।

আরও দেখুনঃ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে কাঁপল ঢাকা! কট্টরপন্থীদের রুখতে মশাল হাতে বিক্ষোভ হিন্দুদের

নেতারা বলেন, “ভারতের হস্তক্ষেপ এবং সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এই আন্দোলন।” নতুন গঠিত ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’কে তারা স্বাধীনতাকামী শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।এই ঘটনার পটভূমিতে সাম্প্রতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রতিবাদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে আসছে।

নতুন ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ গঠনের মাধ্যমে তারা আরও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না।এদিকে, ঘটনাটি ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে এটিকে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হিসেবে দেখছেন।

ভারত সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিদেশ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এমন উত্তেজনা সেই সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এই বিক্ষোভকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বলে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্প, পাট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেখানে ভারতের সঙ্গে জড়িত, সেখানে উদ্বেগ বাড়ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *