দুই ম্যাচে দুই জয়ে ইতিহাস, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে গেল আমেরিকা
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘এই জয় আমাদের মানসিক শক্তির ফল। আমি আমেরিকান নই, তবু ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। আমরা মানুষের সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম, আজ সেটা অনুভব করতে পেরেছি।’
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি ছিল বাস্তবে ফেরার ধাক্কা। শুরু থেকেই তারা ম্যাচের গতি ধরতে পারেনি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমেরিকার গতির সামনে বারবার অসহায় দেখিয়েছে তাদের।
আত্মঘাতী গোলেই ম্যাচের মোড়
ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচকে নিয়ে। চোটের কারণে তিনি খেলতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করেন পচেত্তিনো। তবে মাঠে সেই অনুপস্থিতির কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমেরিকা। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বারবার অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করছিল তারা। সেই চাপের ফলও আসে দ্রুত। ফোলারিন বালোগুন ডান দিক দিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে নিচু ক্রস পাঠান। বলটি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বল তাঁর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই এগিয়ে যায় আমেরিকা।
গোল খাওয়ার মাত্র দুই মিনিট পরই জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মহম্মদ তুরের থেকে বল পেয়ে ম্যাথিউ লেকি দূর থেকে চমৎকার একটি শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল গোলের অনেক উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর পর ম্যাচ ধীরে ধীরে আরও শারীরিক লড়াইয়ের রূপ নেয়। মাঝমাঠে একের পর এক ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি আর ফাউলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত রেফারিকে সাতটি হলুদ কার্ড দেখাতে হয়, যা এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বাধিক।