জন্মদিনে পরশুরাম সাজে 'পাপ্পু' পুজো! ধর্মীয় অবমাননার দায় বিজেপির - 24 Ghanta Bangla News
Home

জন্মদিনে পরশুরাম সাজে ‘পাপ্পু’ পুজো! ধর্মীয় অবমাননার দায় বিজেপির

Spread the love

বারানসী: ১৯ জুন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (rahul gandhi)৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে কংগ্রেসের এক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। যুব…

বারানসী: ১৯ জুন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (rahul gandhi)৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে কংগ্রেসের এক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে গঙ্গার ঘাটে রাহুল গান্ধীকে ভগবান পরশুরামের অবতার হিসেবে তুলে ধরে একটি বড় পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। সেই পোস্টারে রাহুল গান্ধীকে এক হাতে পরশুরামের ঐতিহ্যবাহী কুঠার এবং অন্য হাতে ভারতের সংবিধান ধরে থাকতে দেখা যায়। কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা শুধু পোস্টার প্রদর্শন করেই থেমে থাকেননি। পোস্টারের সামনে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা গঙ্গাজল ও দুধ দিয়ে পোস্টারের ‘দুগ্ধাভিষেক’ সম্পন্ন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা রাহুল গান্ধীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সংবিধান রক্ষার পক্ষে তাঁর অবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছেন বলে দাবি করেন।

যুব কংগ্রেসের নেতাদের বক্তব্য, এই পোস্টার কোনও ধর্মীয় দাবি নয়, বরং একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা। তাঁদের মতে, হিন্দু ধর্মগ্রন্থে পরশুরাম অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। সেই ভাবনাকেই আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে রাহুল গান্ধীকে এক হাতে কুঠার এবং অন্য হাতে সংবিধানসহ দেখানো হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা এই দুই লক্ষ্যই বর্তমানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই কর্মসূচি ঘিরে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতাদের অভিযোগ, একজন রাজনৈতিক নেতাকে হিন্দু দেবতার আসনে বসিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক ও দেব-দেবীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত এবং রাজনৈতিক প্রচারের জন্য সেগুলিকে ব্যবহার করা অনুচিত। বিজেপি নেতাদের একাংশ আরও দাবি করেছেন, কংগ্রেস বারবার ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ কংগ্রেস সমর্থক এই কর্মসূচিকে সৃজনশীল রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মতে, রাহুল গান্ধীকে পরশুরামের সঙ্গে তুলনা করার অর্থ তাঁকে দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সংবিধান রক্ষার বার্তাকে তুলে ধরা। অন্যদিকে বহু নেটিজেন ও সমালোচক প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় প্রতীককে এভাবে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা কতটা গ্রহণযোগ্য।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক ও রাজনৈতিক বার্তার মেলবন্ধন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সময়ে সময়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তবে কোনও জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাকে সরাসরি দেবতার রূপে উপস্থাপন করা হলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের জন্ম দেয়, কারণ এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক বিশ্বাস দুই বিষয়ই জড়িয়ে থাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *