সরু হয়ে যাচ্ছে রক্তনালী! ডায়াবিটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার থেকে ওবেসিটি বাড়াচ্ছে ভ্যাসকুলার ডিজ়িজ
গত এক দশকে ডায়াবিটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অসংক্রামক রোগের (NCDs) প্রকোপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বেশির ভাগ মানুষ জানেন যে এই রোগগুলি হার্ট, লিভার, চোখ, দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে। তবে চিকিৎসকদের মতে এর আরেকটি গুরুতর প্রভাবও রয়েছে। ধীরে ধীরে যা সামনে আসছে, তা হলো রক্তনালির রোগ বা ভ্যাসকুলার ডিজ়িজের বাড়বাড়ন্ত।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রক্তনালিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভ্যাসকুলার রোগের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অন্যতম কারণ ডায়াবিটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি।
ভ্যাসকুলার রোগ আসলে কী?
ভ্যাসকুলার রোগ বলতে ধমনী ও শিরার এমন সব সমস্যাকে বোঝায়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালনকে ব্যাহত করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর সবচেয়ে পরিচিত জটিলতা হলেও, এই রোগ কিডনি, চোখ, মস্তিষ্ক এবং পায়ের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তনালি সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছয় না, ফলে শরীরের সর্বাঙ্গে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের এই ভ্যাসকুলার রোগে আক্রান্ত অনেকেরই এক বা একাধিক অসংক্রামক রোগ থাকে। ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালির ক্ষতি করে, ফলে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, চোখের দৃষ্টি হ্রাস বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান?
এই রোগের আরেকটি বড় সমস্যা হলো, এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকেই গুরুত্ব দেন না। হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, অবশ ভাব, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া, মাথা ঘোরা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের মতো উপসর্গকে অনেকে সাধারণ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার পরেই চিকিৎসকের কাছে যান।
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রাও এই সমস্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তনালির ক্ষতি করে।
তবে, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে অধিকাংশ ভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ত্যাগ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় মতো সতর্ক হলে রক্তনালির রোগের মতো গুরুতর সমস্যাও অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।