বিধানসভার বৈঠকে ঋতব্রতরা, সর্বদলে ডাক পেলেন না মমতাপন্থীরা
ইতিমধ্যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির লড়াই শুরু হয়েছে। একই দলের দু’টি পক্ষ থেকে দু’জনের নাম বিরোধী দলনেতা করার জন্য অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনি কি নিজেই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি বিধানসভা ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন— এই প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর প্রশ্ন, ‘যে দিন বিরোধী দলনেতার নাম পাঠানো হয়েছিল, সেই দিন কতগুলো রাজনৈতিক দল সেখানে ছিল? যারা বিরোধী দল ছিল, তাদের তরফে নাম নিশ্চয়ই বিধানসভায় দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিরোধী দল যদি বিরোধী দলনেতার নাম দেয়, তাকে কি অধ্যক্ষ অস্বীকার করতে পারেন?’ বিধানসভার তরফে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘অধ্যক্ষর কাছে কাছে নাম এলেও তাঁকে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, বিরোধী দলের মধ্যে বিদ্রোহী অংশ ছিল। একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অধ্যক্ষ রাবার স্ট্যাম্পের মতো আচরণ করতে পারেন না।’ তাঁর সংযোজন, ‘এখানে যে নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাঠানো হয়, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। তৃণমূলের তরফে যে তালিকা পাঠানো হয়, প্রথমে সেখানে বিধায়কদের সই ছিল না। পরে যা পাঠানো হয়, সেখানে ব্লক লেটারে কিছু নাম লেখা ছিল।’ বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, ‘বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রস্তাব পাওয়ার জন্য কি অধ্যক্ষ অপেক্ষা করছিলেন?’ বিল্বদল যুক্তি দেন, ‘তৃণমূলের দুই বিধায়ক তাঁদের সই জাল করার অভিযোগ করেছিলেন। এই বিষয়ে গত ২৭ মে এফআইআর করা হয়। সেই দিনই তদন্ত শুরু। তারই মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক সই করে বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করেন।’ যদিও বিচারপতি রাও পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘অধ্যক্ষ নিজের চেম্বারে বসে কী করে জানলেন কোন পক্ষে কতজন আছেন? অধিবেশন না ডেকে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি ক্ষমতা আছে?’ হাইকোর্টে, আজ, বুধবার বেলা দু’টোয় ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।