প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না কাশির সিরাপ! বিজ্ঞপ্তি জারি কেন্দ্রের
নয়াদিল্লি: জ্বর বা সর্দি-কাশিতে ভুগলে পাড়ার দোকান থেকে চট করে একটা সিরাপ কিনে খাওয়ার দিন এবার শেষ! চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া এবার থেকে ওষুধের দোকান…
নয়াদিল্লি: জ্বর বা সর্দি-কাশিতে ভুগলে পাড়ার দোকান থেকে চট করে একটা সিরাপ কিনে খাওয়ার দিন এবার শেষ! চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া এবার থেকে ওষুধের দোকান থেকে আর কোনও ধরনের সিরাপই কেনা যাবে না। মঙ্গলবার একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নিয়মের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, বহুল প্রচলিত কাশির সিরাপও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে। অর্থাৎ, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন দেখালে তবেই মিলবে সিরাপ। (No More Buying Cough Syrup Without a Prescription)
গত জুন মাসেই সরকারের তরফে ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর অধীনে সিরাপ বিক্রি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সরকারি গেজেটে এই নিয়ম প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকেই তা গোটা দেশে কার্যকর হবে। সেইমতো মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই দেশজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হয়ে গেল। এর ফলে বাজারে ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) বা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সহজে কেনা যায়, এমন ওষুধের তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি চিরতরে বাদ দিল কেন্দ্র। যার অর্থ, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রি করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
কেন হঠাৎ এই কড়া পদক্ষেপ?
কেন্দ্রের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে শিশু মৃত্যুর এক মর্মান্তিক ঘটনা। গত বছর দেশে কাশির সিরাপ পান করে মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশে কাশির সিরাপ খাওয়ার পর অন্তত ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয় কড়া তদন্ত, সিল করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানা।
ঘটনার জেরে ভারতে দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সমস্ত ধরনের সর্দি-কাশির ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। শিশু মৃত্যুর সেই অতীত আতঙ্ক এবং ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতেই এবার সব ধরনের সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে কড়া রাশ টানল কেন্দ্রীয় সরকার।