চলল বুলডোজ়ার, নিমেষে দখলমুক্ত ব্যস্ত হটন রোড
এই সময়, আসানসোল: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আসানসোলের হটন রোড অঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলো। সোমবার সকালে একাধিক বুলডোজ়ার নামিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ। উত্তেজনা যাতে না–হয়, তার জন্য ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দফায় দফায় প্রতিবাদ করেন উচ্ছেদ হওয়া মানুষজন। কিন্তু এত মৃদু ছিল সেই প্রতিবাদ যা বুলডোজ়ারের শব্দে শোনাই যায়নি! গুঁড়িয়ে যাওয়া দোকানের সামনে বুক চাপড়ে হাহাকার করা ছাড়া আর কোনও গতি ছিল না।
আসানসোল হটন রোডের দু’পাশের দখল উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২–এ। পর পর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সব অভিযান ভেস্তে গিয়েছেিল। কিন্তু এ বার বিধানসভা নির্বাচনের পরে পুর কর্তৃপক্ষ ১ জুন থেকে ফের উচ্ছেদের নোটিস জারি করে। তা নিয়ে ঘোষণাও করা হয় মাইকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অভিযান ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, অভিযান হয়তো বা শেষপর্যন্ত হবে না। ফলে ওই এলাকার সিংহভাগ ব্যবসাদার আগের মতোই কাজ চালাচ্ছিলেন।
এ দিন সকালে হটন রোডে একাধিক বুলডোজ়ার নামানো হয়। ছিল প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তড়িঘড়ি নির্মাণ খুলে ফেলতে শুরু করেন জবরদখলকারীরা। এমনও যে হতে পারে, তা কেউ কেউ আঁচ করে আগেই জায়গা থেকে সরে গিয়েছিলেন। যাঁরা রয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের চোখের সামনেই বুলডোজ়ার দিয়ে যাবতীয় নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়।
চোখের সামনে দোকান গুঁড়িয়ে যেতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলে দোকান ছিল মহম্মদ আবু খাঁ–এর। তিনি বলছিলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে কিছু বলার নেই। আমি পরিবার নিয়ে পথে বসলাম।’ শিবেন গুপ্তা নামে আক ব্যবসায়ীর মন্তব্য, ‘বহু আশা নিয়ে সরকার বদলেছি। ভেবেছিলাম গরিবের সুরাহা হবে। এ বার সরাসরি পেটে লাথি পড়ল।’
উচ্ছেদ হওয়া মানুষরা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেছেন। এদিন উচ্ছেদ চলাকালীন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেন আসানসোল দক্ষিণ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি শাহ আলম খান। তিনি বলেন, ‘গরিবদের অন্নবস্ত্রের ব্যবস্থা না–করে বর্তমান সরকার তাঁদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।’ প্রসঙ্গত হটন রোডের দখলদাররা রবিবার আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে অভিযান বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
উচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিধায়ক জানান, সরকারের নির্দেশ মতো এখন অবৈধ নির্মাণ তোলা হবে। জায়গা দখল করে রাখা মানুষদের উঠতেই হবে। সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্প রয়েছে। সেই সব প্রকল্পের সুবিধা দিতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সবাই শিবিরে গিয়ে সুবিধা নিতে পারেন। যাঁরা উচ্ছেদ হচ্ছেন, তাঁরাও সরকারের জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করতে পারেন।