অবশেষে সরতেই হল মদনকে, যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনের পথে CAB - 24 Ghanta Bangla News
Home

অবশেষে সরতেই হল মদনকে, যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনের পথে CAB

Spread the love

বয়সসীমা সংক্রান্ত বিতর্কের পর যুগ্মসচিব পদে আর থাকছেন না মদন ঘোষ। নতুন নির্বাচন ঘিরে সরগরম সিএবির অন্দরের সমীকরণ।

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছিল। তা হল, বয়সসীমা অতিক্রম করার পরেও যুগ্মসচিব পদে বহাল থাকা মদন ঘোষের অবস্থান। অবশেষে সেই বিতর্কের অবসান ঘটতে চলেছে। সিএবি জানিয়ে দিয়েছে যে বর্তমান যুগ্মসচিব আর পদে থাকতে পারবেন না এবং নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

কয়েক সপ্তাহ আগেও মদন ঘোষ নিজের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বয়স সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি দাবি করেছিলেন যে ক্রিকেট প্রশাসনে থাকার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। এমনকি তিনি সমালোচকদের লোধা কমিটির সুপারিশ ভালোভাবে পড়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা বলল।

আরও পড়ুন: জাপানি জাদুতে নাজেহাল নেদারল্যান্ডস, অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হল ম্যাচ

লোধা কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী কোনও ব্যক্তি ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন না। গত মে মাসেই মদন ঘোষের বয়স সত্তর পূর্ণ হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুসারে তাঁর পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ছিল। ময়দানের বিভিন্ন মহল থেকেও বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। সেই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত সিএবি নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

সোমবার রাতে সিএবির পক্ষ থেকে অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্যদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, আগামী ১৯ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে বিশেষ সাধারণ সভা বা এসজিএম-এর দিনক্ষণ ও স্থান নির্ধারণ করা হবে। মূল উদ্দেশ্য একটাই—যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন আয়োজন করা।

চিঠিতে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে বর্তমান যুগ্মসচিব ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’। অর্থাৎ তিনি আর ওই পদে থাকার যোগ্য নন। এই ঘোষণার পর কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে যে মদন ঘোষের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে।

তবে নতুন বিতর্কও শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি নিয়ম এতটাই স্পষ্ট হয়, তাহলে বয়সসীমা অতিক্রম করার পরেও তাঁকে প্রায় এক মাস পদে রাখা হল কেন? অতীতে সিএবির অন্য পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে এমন নমনীয়তা দেখা যায়নি। মেয়াদ বা যোগ্যতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় মদন ঘোষের ক্ষেত্রে এই বাড়তি সময় পাওয়ার কারণ কী, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।

সমালোচকদের মতে, নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যদি কোনও ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী অযোগ্য হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। ফলে সিএবির এই বিলম্বিত সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে হচ্ছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এবার যুগ্মসচিব পদে নতুন মুখ আসছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই পদে কাউকে মনোনীত করা হবে না; নির্বাচন করেই প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হবে। ফলে আগামী দিনে সিএবি প্রশাসনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক লড়াই আরও জমে উঠতে পারে। শাসক গোষ্ঠী যেমন নিজেদের প্রার্থী দেবে, তেমনই বিরোধী পক্ষও প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি পদ পূরণের প্রক্রিয়া নয়, বরং সিএবির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সমীকরণ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *